বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,
শরতের রূপ ও প্রকৃতি

কাশফুলের চাদরে করতোয়া নদীর পাড়: নবাবগঞ্জে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

কুদ্দুস আলী খান

অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

কাশফুলের চাদরে করতোয়া নদীর পাড়: নবাবগঞ্জে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

ছবি: দিনাজপুর টিভি

শরতের নীল আকাশ, মৃদুমন্দ বাতাস আর সাদা কাশফুলের অপরূপ শুভ্রতায় বদলে গেছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের করতোয়া নদীর চরাঞ্চল। নদীর দুই পাড়জুড়ে ফুটে থাকা কাশফুলের শুভ্রতায় সেখানে এক চোখজুড়ানো মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ রূপ উপভোগ করতে প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী।

সরেজমিনে দেখা যায়, করতোয়া নদীর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে সবুজ ঘাসের বুক চিরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি সাদা কাশফুল। নদীর নির্মল বাতাসে অবিরাম দুলছে কাশবন। বিকেলের নরম সোনাঝরা রোদ কাশবনের ওপর পড়তেই নদীর পাড়ের দৃশ্যপট হয়ে উঠছে আরও মোহময়।

দর্শনার্থীদের কেউ কাশবনের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ ধারণ করছেন ভিডিও চিত্র, আবার কেউ নদীর কূল ঘেঁষে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির শান্ত রূপ। বিশেষ করে দাউদপুর ইউনিয়নের জাতের ঘাট এলাকায় বিকেল হলেই বিভিন্ন বয়সী মানুষের কোলাহল বহুগুণ বেড়ে যায়।

পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন মানুষ আসছেন প্রকৃতির এই সতেজ আমেজ উপভোগ করতে। স্থানীয়দের মুখ থেকে ছড়িয়ে পড়া এই সৌন্দর্যের খবর পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ আসতে শুরু করেছেন।

ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী জানান, এখানকার কাশফুলের দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিকেলে এখানে সময় কাটাতে এসে মন ভরে গেছে। বিশেষ করে ছবি তোলা ও নির্মল বাতাসে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এটি চমৎকার একটি জায়গা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই কাশবন সংলগ্ন এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, করতোয়া নদীর পাড়ে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনের এই বেচাকেনার আয় দিয়ে এখন অনেকের সংসার স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে। দিন যত গড়াচ্ছে, দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ততই বাড়ছে। করতোয়ার বুকে জেগে ওঠা পলির চর আর তার ওপর বাতাসের দোলায় দুলতে থাকা ধবধবে সাদা কাশফুল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণে রূপ নিয়েছে।