বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,

এনআইডিতে নাম বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

এনআইডিতে নাম বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে নিজের নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, পেশা কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা বিধি মোতাবেক সংশোধনের পূর্ণ সুযোগ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে আবেদনের সময় তথ্যের ধরনভেদে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয়।

আগে থেকেই সঠিক কাগজপত্র সংগ্রহে রাখলে আবেদন প্রক্রিয়া যেমন সহজ হয়, তেমনি মাঠপর্যায়ে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা বাড়ে।

নিজের নামের বানান সংশোধন বা আংশিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দিতে হয়। যাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা রয়েছে, তাদের মাধ্যমিক, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মূল বা সত্যায়িত সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

এর সঙ্গে ডিজিটাল অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি সংযুক্ত করতে হবে।

পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে সেগুলোও শক্তিশালী প্রমাণক হিসেবে দাখিল করা যায়। এছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে সন্তানের অনলাইন জন্মসনদ বা শিক্ষাসনদ, মুসলিমদের ক্ষেত্রে নিকাহনামা বা বিবাহ সনদ এবং স্বামী কিংবা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি প্রয়োজন হতে পারে।

তবে কোনো ব্যক্তি যদি নিজের পুরো নাম আমূল পরিবর্তন করতে চান, তবে এসব প্রামাণ্য নথির পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত আনুষ্ঠানিক হলফনামা জমা দিতে হয়।

প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতে সরেজমিন পুলিশ ও প্রশাসনিক তদন্ত পরিচালনা করে থাকে।

বাবা কিংবা মায়ের নামের বানান, পারিবারিক পদবি অথবা সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট দালিলিক প্রমাণপত্র প্রয়োজন হয়।

এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিজস্ব শিক্ষাগত সনদের পাশাপাশি নিজের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট দাবির সত্যতা প্রমাণে ভাই-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষেত্রবিশেষে বাবা-মায়ের পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পুরো নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পারিবারিক বিদ্যুৎ বিলের কপি কিংবা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কর পরিশোধের রশিদও চাওয়া হতে পারে।

জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ বা বয়স পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন।

বয়স সংক্রান্ত আবেদনের সঙ্গে মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত বোর্ড সনদ এবং অনলাইন জন্ম নিবন্ধন দাখিল করতে হয়।

পারিবারিক বয়সের ধারাবাহিকতা প্রমাণের জন্য ভাই-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ারিশান সনদ এবং ক্ষেত্রবিশেষে নিকাহনামা যাচাই করা হয়।

শিক্ষাগত সনদ না থাকলে সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে ইস্যুকৃত আনুষ্ঠানিক বয়স নির্ধারণ সংক্রান্ত ডাক্তারি প্রত্যয়নপত্র বা মেডিকেল প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বুক, এমপিও শিট অথবা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হয়।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশনের মূল বই এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত মূল গেজেট ও সনদপত্র জমা দিতে হয়। পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সে উল্লেখিত বয়সও সহায়ক প্রমাণ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

স্থায়ী কিংবা বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভৌগোলিক সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রমাণপত্র প্রয়োজন।

এর মধ্যে আবেদনকারীর ডিজিটাল অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, বাসাবাড়ির সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিলের কপি, ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে চৌকিদারি ট্যাক্স এবং পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে হোল্ডিং ট্যাক্স বা পৌর কর পরিশোধের রসিদ অন্যতম।

এর পাশাপাশি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র কিংবা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে সংগৃহীত নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।

আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তথ্যের গভীরতা যাচাইয়ে অতিরিক্ত যেকোনো সরকারি নথি বা সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন চাইতে পারে। আবেদন সাবমিট করার আগে প্রাসঙ্গিক সব ধরনের সরকারি ও আইনি কাগজপত্র প্রস্তুত রাখলে সংশোধন প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়।