অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
বিশ্বখ্যাত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিস্টার বিস্টের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার স্বপ্ন নিয়ে টানা এক বছর এক ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন ভারতের গুজরাট রাজ্যের সুরাট শহরের তরুণী মায়া গুপ্তা। টানা ৩৬৫ দিনের সেই দীর্ঘ ধৈর্য ও সামাজিক উদ্যোগ শেষে অবশেষে নিজের প্রিয় তারকার সান্নিধ্য পেয়েছেন তিনি।
শুধু সরাসরি দেখাই নয়, নিজ এলাকার অসহায় মানুষের জন্য বছরজুড়ে নিঃস্বার্থ মানবিক কাজের অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে মিস্টার বিস্টের পক্ষ থেকে তিনি উপহার পেয়েছেন ১০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ ২৯ হাজার টাকা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে।
মায়া গুপ্তার এই অসাধারণ যাত্রার সূচনা হয়েছিল একটি সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিগত প্রত্যাশাকে ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ডিজিটাল ভিডিও ব্যক্তিত্ব মিস্টার বিস্টের সরাসরি নজর কাড়ার লক্ষ্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ‘মায়া ফর বিস্ট’ নামে একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট চালু করেন। সেখানে তিনি প্রতিদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের দৃশ্য তুলে ধরে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতেন এবং মিস্টার বিস্টকে ধারাবাহিকভাবে ট্যাগ করতে থাকেন।
দিন যত গড়িয়েছে, নেটিজেনদের মধ্যে মায়ার এই অবিচল উদ্যোগ ঘিরে গভীর আগ্রহ ও কৌতুহল তৈরি হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করতে শুরু করেন। তিনি কি শেষ পর্যন্ত নিজের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন—এই প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষায় ছিলেন কোটি অনুরাগী।
তবে মায়ার এই ৩৬৫ দিনের অভিযানের একমাত্র উদ্দেশ্য কেবল একজন বিখ্যাত মানুষের সঙ্গে ছবি তোলা বা দেখা করা ছিল না। পুরো এক বছর ধরে তিনি নিজের এলাকার চরম দরিদ্র, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছেন। নিজ উদ্যোগে খাবার বিতরণ করার সেই দৃশ্যগুলোই তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেছেন। অর্থাৎ নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণের চেষ্টার সাথে তিনি আর্তমানবতার সেবাকে চমৎকারভাবে যুক্ত করেছিলেন।
ধারাবাহিক এই মানবিক উদ্যোগ একপর্যায়ে খোদ মিস্টার বিস্টের নজরে পড়ে।
সাক্ষাতের সময় জনপ্রিয় এই মার্কিন ইউটিউবার জানান, তিনি নিয়মিত মায়ার শেয়ার করা ভিডিওগুলো প্রত্যক্ষ করতেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই আন্তরিকতা তাঁকে গভীরভাবে অভিভূত করেছে।
ভিডিওতে অনুভূতি প্রকাশ করে মিস্টার বিস্ট বলেন, ‘ইনি মায়া। গত এক বছর ধরে তিনি নিজের এলাকার মানুষকে খাবার দিয়ে আসছেন এবং তার প্রতিটি ভিডিওতে আমাকে ট্যাগ করছেন।’
মায়ার সামাজিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, নিজের এলাকার বাসিন্দাদের কল্যাণে মায়া যে আত্মত্যাগ দেখিয়েছেন, সেটির জন্যই তিনি তাঁকে বিশেষ এই সারপ্রাইজ উপহার দিতে চেয়েছেন।
এরপরই মায়ার হাতে ১০ হাজার মার্কিন ডলারের সম্মাননা তুলে দেন তিনি, যাতে এই অর্থ পুনরায় স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা যায়।
অপ্রত্যাশিত এই উপহার গ্রহণের পর মায়া অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, প্রাপ্ত এই সমুদয় অর্থ তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে নিজের কাছে জমিয়ে রাখবেন না; বরং এর একটি বড় অংশ এলাকার দরিদ্র মানুষের কল্যাণে বণ্টন করবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আজীবন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অবিচল প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মায়া ও মিস্টার বিস্টের এই আবেগাপ্লুত সাক্ষাতের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে ভিডিওটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছয় কোটিরও বেশি বার দেখা হয়েছে। মায়ার অদম্য সংকল্প ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার পাশাপাশি তাঁর এই মানবিক উদ্যোগকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ায় মিস্টার বিস্টের উদার মানসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্বজুড়ে লাখো নেটিজেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন