অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
কলদাতার নাম ও নম্বর মোবাইল ফোনের পর্দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শন করার নতুন ব্যবস্থা চালু করছে ভারত সরকার। েঅপরিচিত নম্বর থেকে আসা প্রতারণামূলক কল প্রতিরোধ এবং গ্রাহকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারে আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশটিতে এই নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে। ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগ (ডিওটি) সব টেলিকম অপারেটরকে এই সেবা কার্যকরের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন এই পদক্ষেপে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে গ্রাহকের পক্ষে তা শনাক্ত করা অনেক সহজ হবে।
এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি ভারতের নিজস্ব কলার শনাক্তকরণ প্রযুক্তি `কলিং নেম প্রেজেন্টেশন` বা সিএনএপি। প্রাথমিকভাবে ফোরজি ও ফাইভজি মোবাইল নেটওয়ার্কে এই সেবা সরাসরি চালু হবে। তবে পুরোনো টুজি ও থ্রিজি সংযোগ এবং ল্যান্ডফোন নেটওয়ার্কে এই ব্যবস্থা যুক্ত করার বিষয়টি পরবর্তীতে আলাদাভাবে পর্যালোচনা করবে কর্তৃপক্ষ।
ব্যবহারকারীর ফোনে কোনো নম্বর আগে থেকেই সংরক্ষিত থাকলে সেই নামই পর্দায় দেখা যাবে। নম্বর সংরক্ষিত না থাকলে দেশের ভেতর থেকে আসা যেকোনো কলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মোবাইল সংযোগদাতার গ্রাহকতথ্যে নিবন্ধিত মূল নাম স্ক্রিনে ফুটে উঠবে। তবে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন এলে পর্দায় শুধু `আন্তর্জাতিক কল` লেখা দৃশ্যমান হবে।
প্রক্রিয়াটি চালু রাখতে টেলিকম সংস্থাগুলোকে গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয় ও নিবন্ধিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরি, তদারকি ও নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। কোনো গ্রাহকের কাছে কল আসার সাথে সাথে অপর প্রান্তের সংযোগদাতা সেই তথ্যভাণ্ডার থেকে কলারের যাচাইকৃত নাম সংগ্রহ করে গ্রাহকের ডিসপ্লেতে তুলে ধরবে।
গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই প্রযুক্তি কাঠামো তৈরিতে `সিকিউরিটি-বাই-ডিজাইন` নীতি মানার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। কোনো কল শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত কলারের নাম কোনো মাধ্যমেই সংরক্ষণ করা যাবে না। পাশাপাশি যারা আগে থেকেই `কলিং লাইন আইডেন্টিফিকেশন রেস্ট্রিকশন` (সিএলআইআর) সুবিধা ব্যবহার করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নাম দেখানোর বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে না।
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সংযোগের জন্য কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক পছন্দের নাম ব্যবহারের সুযোগ মিলবে, তবে সেই নামটি ট্রেডমার্ক বা পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) পোর্টালে নিবন্ধিত হতে হবে। নথিপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের পুরো দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংস্থাকে বহন করতে হবে।
কয়েক মাস ধরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার পর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হলো। ভারতের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাই ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এমন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করেছিল। এরপর ২০২৫ সালের অক্টোবরে টেলিযোগাযোগ বিভাগের চূড়ান্ত প্রস্তাবে সম্মতি জানায় তারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন