শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,

ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন সুপ্রিম কোর্টে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম

ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন সুপ্রিম কোর্টে

ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভ দমাতে রাজধানী দিল্লি কার্যত অচল করে দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক হলফনামায় তিনি জানান, গত ৯ অক্টোবর আদালতের দেওয়া নির্দেশনা কোনোভাবেই ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা হয়নি। রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য ব্যাপক সংঘাত এড়াতেই বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ জারি করতে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ভারতের বার্তাসংস্থা এএনআই এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি মোকাবিলার নামে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা রুদ্ধ করা যাবে না।

আদালতের সেই নির্দেশনার পরদিনই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ১০ অক্টোবর দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়, ২৪০টি দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়, মোবাইল ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং প্রধান প্রধান সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়। ফলে পুরো দিল্লি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

আদালতের আদেশ অমান্য করায় কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি পুলিশ ও দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়। সুপ্রিম কোর্টের জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এই নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

হলফনামায় গোবিন্দ মোহন উল্লেখ করেন, ১০ অক্টোবর প্রয়োজনীয় পূর্বানুমতি ছাড়াই সিজেপি নামের সংগঠনটি বিক্ষোভের আয়োজন করে। এর আগে গত ২০ জুলাই এই সংগঠনের ডাকে ‍‍`সংসদ চলো‍‍` কর্মসূচিতে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়।

ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে তিনি জানান, ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত রাইসিনা হিলসের চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কেবল সেলুলার মোবাইল ইন্টারনেট স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে ব্রডব্যান্ড ও ওয়াইফাই ইন্টারনেট সেবা চালু ছিল।

দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারও আদালতে পৃথক হলফনামা দাখিল করেছেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের গভীর বিশ্লেষণ ও রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনা করেই পুলিশ পদক্ষেপ নেয়। দেশের রাজধানীর শান্তি বিনষ্ট হতে দেওয়া যায় না বলেই এই আগাম সতর্কতা ছিল।

পুলিশের হলফনামায় দাবি করা হয়, আটক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে শোভন আচরণ করা হয়েছে এবং তাদের চা, কফি ও নাশতা দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং কোনো রাজনৈতিক নেতার সম্মানহানি করা হয়নি।

তবে বিরোধী দলগুলো ও আন্দোলনকারী তরুণ-শিক্ষার্থীদের ভাষ্য একেবারেই বিপরীত। পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক লাঠিচার্জ ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তারা। গত বুধবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিত তরুণ-শিক্ষার্থীদের হাজির করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পুলিশের মারধরের বিভিন্ন চিত্র ছড়িয়ে পড়ে।

দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ তাদের হলফনামায় আদালতকে জানায়, পুলিশের অনুরোধ বিবেচনা করেই ওই ৪৫টি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে পুরো মেট্রো ব্যবস্থার তিন শতাধিক স্টেশনের মধ্যে বাকি স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল চালু ছিল।

এদিকে বিক্ষোভের সময় দিল্লি পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নারী সাংবাদিকদের যৌন হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে আলাদা মামলা দায়ের হলে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এর শুনানি হয়।

প্রধান বিচারপতি পুলিশকে সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও ফুটেজ নিরাপদে সংরক্ষণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহিতাকে নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেন, যেসব নারী সাংবাদিক পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হয়রানিমূলক বা দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।