ফাহিম হোসেন রিজু
অক্টোবর ৪, ২০২৫, ০৬:১৭ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামে করতোয়া নদীর ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শত শত পরিবার। এই নদীভাঙন প্রতিদিন বসতভিটা, ফসলি জমি, চলাচলের রাস্তা এমনকি স্থানীয় স্কুলের পথও গিলে খাচ্ছে।
নদীর হঠাৎ তীব্র স্রোতে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এর ফলে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার: সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ২০০ জন স্কুলগামী শিক্ষার্থী। ভাঙনের কারণে তাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন বা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কেবল আশ্বাস দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। নদীপাড়ের মানুষ মনে করছে, সরকার তাদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতা অবশ্য ছিল। বুলাকীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সদের আলী খন্দকার জানান, তিনি খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ইউএনও-কে বিষয়টি অবহিত করেন। ইউএনও-এর মাধ্যমে পাউবোর একটি দল এসে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে পরিমাপ নেয়। পাউবোর পক্ষ থেকে প্রায় ১০-১২ দিন আগে প্রস্তাবিত এস্টিমেট ঢাকায় পাঠানো হয়েছে—কিন্তু এখন সবটাই ঝুলে আছে নথিপত্রের জটিলতায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই পুরো কুলানন্দপুর গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। শুধু বসতি নয়, শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠা শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎও অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।