জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
ইরানকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে গত কয়েক দিনে ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪ ডলার বেড়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে তেলের বাজার গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ ডলার ১৫ সেন্ট। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ৫৯ ডলার ৭৮ সেন্টে পৌঁছেছে, যা গত ৮ ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
১. ইরান সংকট ও ট্রাম্পের হুমকি: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি ঘোষণা করেছেন যে, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করা হবে।
ওপেকের অন্যতম প্রধান উৎপাদক দেশ হওয়ার কারণে ইরানের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।২. ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি প্রিমিয়াম: আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বার্কলেসের মতে, ইরানে অস্থিরতার কারণে তেলের দামে ব্যারেলপ্রতি ৩ থেকে ৪ ডলার ‘জিওপলিটিক্যাল রিস্ক প্রিমিয়াম’ যোগ হয়েছে। অর্থাৎ তেলের স্বাভাবিক দামের চেয়ে এই বাড়তি অংশটি সরাসরি রাজনৈতিক উত্তেজনার ফল।
৩. ভেনেজুয়েলা ইস্যু: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেখান থেকে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়েও বাজারে উদ্বেগ রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, নতুন সরকার নিষেধাজ্ঞার শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৫ কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তর করতে পারে।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি আজ তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তবে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। বিশ্ববাজারে তেলের এই ঊর্ধ্বগতি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন