মার্চ ৫, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
সরকার আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়ে দিলেও এলপি গ্যাসের বাজারে কোনোভাবেই শৃঙ্খলা ফেরেনি। সরকারিভাবে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত থাকলেও খুচরা বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। বর্তমানে নির্ধারিত ১৩৪১ টাকার সিলিন্ডারের জন্য সাধারণ গ্রাহকদের জায়গাভেদে ১৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য রান্নার গ্যাসের এই বাড়তি খরচ এখন বড় ধরনের সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি সিলিন্ডারে তাদের ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে বড় সিলিন্ডারের দাম আরও কয়েক গুণ বেশি রাখা হচ্ছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০টি সিলিন্ডার ব্যবহারে তাদের ৩০ হাজার টাকারও বেশি বাড়তি লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সরকারি দাম কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকায় এবং প্রশাসনিক নজরদারি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি সিলিন্ডার অন্তত চারটি স্তর পার হয়। এই প্রতিটি ধাপেই নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করা হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, ডিলাররা সরকার নির্ধারিত রেটের চেয়ে বেশি দাম নিলেও কোনো বৈধ রশিদ দিচ্ছেন না। রশিদ জালিয়াতি ও ডিলারদের কারসাজির কারণেই খুচরা পর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব বলছে, তাদের তালিকাভুক্ত অপারেটররা নির্ধারিত দামেই গ্যাস সরবরাহ করছে। তবে খুচরা পর্যায়ে তদারকির অভাবে দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি লোকবল সংকটের কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা আবারও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু দাম নির্ধারণ করে দিলে হবে না বরং কঠোর তদারকি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত না করলে এলপিজি বাজারের এই বিশৃঙ্খলা দূর হবে না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন