মার্চ ৮, ২০২৬, ১০:০৩ এএম
দেশে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি তেলের সংকট এড়াতে আজ রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি আগেই দেশের সব পেট্রোল পাম্পকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে। এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর একটি পাম্প পরিদর্শন শেষে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে মূলত বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমদানিতে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলা করতেই এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ দুই লিটার পেট্রোল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল বা জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য দৈনিক বরাদ্দের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ লিটার। গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। লোকাল বাস বা পিকআপ ভ্যান প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে।
অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ থাকবে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দেশের চাহিদাকৃত জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ধীরগতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়া মাঝে মধ্যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জ্বালানির মজুত নিয়ে নেতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত সংগ্রহের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক ডিলার ডিপো থেকে আগের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন যা বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করতে পারে। মূলত মজুত স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা বন্ধ করতেই সরকার এই রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন