এপ্রিল ১, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিশালাকার এক কোরাল মাছ। বুধবার সকালে কুয়াকাটা মেয়র মৎস্য বাজারে মাছটি আনা হলে এটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। ২২ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের এই মাছটি স্থানীয় বাজারে সাড়ে ২৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় সচরাচর এত বড় কোরাল মাছ ধরা পড়ে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
ঘটনার শুরু গত মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে। বঙ্গোপসাগর ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় প্রতিদিনের মতো জাল ফেলেন ফারুক মাঝি নামের এক জেলে। মূলত ইলিশ মাছ ধরার আশায় তিনি সাগরে গিয়েছিলেন। কিন্তু জাল টেনে তোলার সময় তিনি বুঝতে পারেন ভারী কিছু একটা আটকেছে।
পরে কাছে আনতেই দেখেন বিশাল এক কোরাল মাছ লাফলাফি করছে। ফারুক মাঝি জানান, এত বড় মাছ জালে পাওয়ায় তিনি এবং তার সঙ্গীরা দারুণ আনন্দিত। মাছটি তাজা অবস্থায় আড়তে আনতে সক্ষম হন তারা।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে মাছটি কুয়াকাটা মেয়র মৎস্য মার্কেটে বিক্রির জন্য তোলা হয়। সেখানে প্রতি কেজি ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে মোট ২৯ হাজার ৫৩০ টাকায় মাছটি কিনে নেন ‘খান ফিশ’ এর স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর খান। ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার লিটন জানিয়েছেন, ঢাকায় বড় আকারের কোরাল মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই জেলের কাছ থেকে সরাসরি মাছটি কেনা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি রাজধানীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মাছটি বাজারে আসার পর উৎসুক মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন জানান, সচরাচর বাজারে দুই-তিন কেজি ওজনের কোরাল দেখা গেলেও ২২ কেজি ওজনের মাছ সত্যিই বিরল। তবে দাম বেশি হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি কেনা সম্ভব হয়নি। বড় মাছগুলো সাধারণত আস্ত বিক্রি হওয়ায় মধ্যবিত্তদের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ কম থাকে
অন্যদিকে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, কোরাল মাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে জিংক, আয়োডিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় সহায়ক।সাগরে বড় মাছ ধরা পড়ার এই প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে মৎস্য বিভাগ। পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, সরকারি বিভিন্ন বিধিনিষেধ মেনে চলায় এবং জেলেদের সচেতনতা বাড়ায় বর্তমানে সাগরে মাছের আকার ও পরিমাণ বাড়ছে।
যথাযথ সংরক্ষণ ও মা মাছ নিধন বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় বড় মাছ জালে ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।উপকূলীয় মৎস্যজীবীরা মনে করছেন, গভীর সাগরে অভিযান পরিচালনা করলে এমন বড় মাছ আরও পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এই প্রাপ্তি সাধারণ জেলেদের মাঝে নতুন করে উৎসাহ তৈরি করেছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন