শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

পেট্রোল-অকটেনের মজুত কতদিন চলবে? জানাল জ্বালানি বিভাগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

পেট্রোল-অকটেনের মজুত কতদিন চলবে? জানাল জ্বালানি বিভাগ

বাংলাদেশে আগামী দুই মাস পেট্রোল ও অকটেনের কোনো ধরণের সংকট হবে না বলে নিশ্চিত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এই মুহূর্তে দেশে প্রয়োজনীয় সব ধরণের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। 

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৪৩ হাজার টন ডিজেল, ৯ হাজার ৫৬৯ টন অকটেন এবং ১৬ হাজার ৮১২ টন পেট্রোল মজুত রয়েছে, যা আগামী দুই মাসের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকার জনস্বার্থে বিশাল অংকের ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। 

প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে সরকার প্রায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। যুগ্ম সচিব একটি উদাহরণ দিয়ে জানান, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বাজারে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অথচ আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী এর প্রকৃত মূল্য হওয়া উচিত ছিল ১৫৫ টাকা। 

অর্থাৎ প্রতি লিটার ডিজেলেই সরকার ৫৫ টাকা করে ভর্তুকি দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমাতেই চলতি এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সারা দেশে এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৪২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। 

তিনি সাধারণ গ্রাহকদের প্রতি অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে মজুত করার প্রবণতা পরিহার করার আহ্বান জানান। তার মতে, জনগণের মধ্যে যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনার ভীতি কাজ করে, তবে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার এখন অন্তত তিন মাসের জ্বালানি মজুত করার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব সম্পর্কে যুগ্ম সচিব জানান, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব থেকে যাবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সব দেশকেই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণের কথা মাথায় রেখে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এলপিজি গ্যাসের দাম নিয়ে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ আসছে, সেগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।