বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এস আলমের হাতে ব্যাংক ফেরানোর দাবিতে মতিঝিলে বিক্ষোভ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম

এস আলমের হাতে ব্যাংক ফেরানোর দাবিতে মতিঝিলে বিক্ষোভ

মতিঝিলে উত্তপ্ত ব্যাংকপাড়া

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকসহ ছয়টি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় এস আলম গ্রুপের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কয়েকশ’ চাকরিচ্যুত কর্মী। রবিবার সকাল ১০টার দিকে মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। 

এ সময় আন্দোলনকারীরা বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে ৫ আগস্টের আগের মালিকদের হাতে ব্যাংকের দায়িত্ব হস্তান্তরের জোর দাবি জানান।বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া কর্মীরা মূলত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। 

তাদের প্রধান তিনটি দাবির মধ্যে রয়েছে— অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতদের অবিলম্বে পুনর্বহাল, এস আলমের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া এবং বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়া। 

যদি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হয়, তবে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দা। উল্লেখ্য, এই পটিয়া এলাকাতেই এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বাড়ি। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ব্যাংক রেজুলেশন আইনে আগের মালিকদের ফেরার সুযোগ দেওয়ার গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর থেকেই এই কর্মীরা সংগঠিত হতে শুরু করেন। 

গত দুই দিনে পটিয়া থেকে কয়েক হাজার মানুষকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় আনা হয়, যারা রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই তারা আজ সকালে মতিঝিল ও সচিবালয় সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হন।অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বর্তমান কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে ভিন্ন কথা। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, এই কর্মীদের চাকরি যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ ছিল না, বরং ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় এটি একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ছিল। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শে নিয়োগপ্রাপ্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই করার সময় অনেকের কাগজপত্রে জালিয়াতি ধরা পড়ে। এছাড়া একটি বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষায় যারা অংশ নেননি বা অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন, কেবল তাদেরই নিয়ম মেনে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের চাকরিতে ফেরার আইনি কোনো ভিত্তি নেই।উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। 

আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তখন এসব ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তারল্য সংকটের কারণে এরই মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে অন্য ব্যাংকের সাথে একীভূত করা হয়েছে। আল-আরাফাহ ও ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে স্বতন্ত্র পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এস আলমের সমর্থকদের এই রাজপথের তৎপরতা নতুন করে উত্তজনা সৃষ্টি করেছে।

বিকেল নাগাদ বিক্ষোভকারীরা ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। তবে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে এই বিক্ষোভ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যাংকপাড়া হিসেবে পরিচিত মতিঝিলে এমন অস্থিরতা আগামী কয়েকদিন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।