এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
দেশে জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে চলা আলোচনার মধ্যেই সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বা আইএমএফের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। রোববার (১৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
মূলত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক পরবর্তী বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনার সময় তিনি জ্বালানি তেলের বিষয়টি উত্থাপন করেন।অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না।
তিনি দাবি করেন যে, পার্শ্ববর্তী দেশ বা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অত্যন্ত সহনীয় রাখা হয়েছে এবং বৃদ্ধির হারও তুলনামূলকভাবে বেশ কম। বিশ্ববাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আমদানিকৃত জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্তটি একটি অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল মূল্যস্ফীতির ওপর তেলের দামের প্রভাব। এ প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক ভিন্নধর্মী পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তার ভাষায়, জ্বালানি তেলের দামের সাথে মূল্যস্ফীতির সরাসরি কোনো একক সম্পর্ক নেই। তিনি মনে করেন, বাজার ব্যবস্থাপনার অন্যান্য অনুষঙ্গ ঠিক থাকলে তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি নাও হতে পারে। তবে বিরোধী দল ও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কার বিপরীতে মন্ত্রীর এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করেই প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সচিবালয়ের এই ব্রিফিংয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, সরকার দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভর্তুকি ও মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো স্থিতিশীল রয়েছে বলেও দাবি করেন।
উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর ঋণের শর্ত হিসেবে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর যে গুঞ্জন ছিল, মন্ত্রী তা নাকচ করে দিয়ে কেবল বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতাকেই দায়ী করলেন। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রীর এই আশ্বাস বাজারের প্রকৃত পরিস্থিতির ওপর কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন