জুন ২৯, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দীর্ঘ চার বছর পর আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সোমবার দিন শেষে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর নতুন ঋণ যোগ হওয়ার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বা আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৮০ বিলিয়ন ডলার।এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে অর্থপাচার বৃদ্ধি ও নানাবিধ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে এবং ২০২৪ সালের আগস্টে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় তা ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
তবে গত ১৪ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বা এডিবির ১০০ কোটি ডলার ঋণ যুক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি উন্নত হতে শুরু করে এবং রিজার্ভ ৩১ বিলিয়নের ঘর অতিক্রম করে। দেশের ইতিহাসে রিজার্ভের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২১ সালের আগস্টে যখন তা রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছিল।চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে যা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে চাঙ্গা করেছে।
এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৩০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক। গত অর্থবছরজুড়ে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ যা দেশের সার্বিক অর্থবাজারে এক সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। আইএমএফের ঋণের কঠোর শর্ত মেনে ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিয়মিত রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করে আসছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন