এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১০:০৯ এএম
শান্তি আলোচনা নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও উর্ধ্বমুখী হয়েছে। সোমবার দিনের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮৭ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর থেকেই বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম খুব দ্রুত ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব কিছুটা পড়েছে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতেও।
লেনদেনের শুরুতে হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার কোপসি সূচকেও ১ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।তবে তেলের দাম বাড়লেও বৈশ্বিক ব্যাংকিং ও ঋণদান খাতে এক ধরনের বড় সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংক আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, চলমান যুদ্ধের প্রভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অবমূল্যায়ন চার্জের ইঙ্গিত দিয়েছে। অর্থনীতির এই টালমাটাল অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির ওপরই এখন পরবর্তী বাজার দর নির্ভর করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন