এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজধানীর কাঁচাবাজারে মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে মুরগির বাজারে এই স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। মাছের উত্তাপ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর রামপুরা, আফতাবনগর ও ডিএনসিসি কৃষি মার্কেট ঘুরে নিত্যপণ্যের এই চিত্র পাওয়া গেছে।বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে সোনালি মুরগির।
কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা কমে আজ সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পোল্ট্রি বা ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ১০-২০ টাকা কমে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে। দেশি মুরগির দামেও বড় প্রভাব পড়েছে; গত সপ্তাহে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া দেশি মুরগি আজ ৭২০ টাকায় মিলছে।
তবে লেয়ার মুরগির দাম উল্টো ২০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খামারে উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে।মুরগির বাজারে কিছুটা সুখবর থাকলেও মাছের বাজারের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। বর্তমানে বাজারে ২২০-২৩০ টাকার নিচে কোনো ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙ্গাশ মাছের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২২৩০ টাকায় ঠেকেছে। মাঝারি ওজনের রুই মাছের দাম ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪০-৩৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বড় সাইজের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল ও টেংরাসহ প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৩০-৫০ টাকা বেড়েছে।
মাছের এই আকাশছোঁয়া দামে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।মাংসের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গরুর মাংস আগের মতোই কেজিপ্রতি ৮০০ টাকায় স্থির রয়েছে। খাসির মাংস কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা। তবে মাছ ও মাংসের তুলনায় সবজির বাজার কিছুটা নিম্নমুখী। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজিতে ২০-৩০ টাকা দাম কমেছে। বাজারে এখন পটল ও করলা ৫০-৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা এবং বেগুন ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম কমছে।
বাজারে আসা ক্রেতারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের মতে, সবজি ও মুরগির দাম কমায় কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেও মাছের দাম বাড়ায় পকেটে টান পড়ছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির একটি পরোক্ষ প্রভাব পরিবহন খরচের মাধ্যমে বাজারে পড়ছে। এই বাড়তি খরচ সমন্বয় করা গেলে নিত্যপণ্যের দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে থাকতো বলে মনে করছেন তারা। সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজার এখন একদিকে স্বস্তি আর অন্যদিকে অস্বস্তির এক দোলাচলে রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন