এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আগামী বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম গড়ে ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির সর্বশেষ ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তেল, সার ও ধাতুর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালে সামগ্রিক জিনিসপত্রের মূল্য প্রায় ১৬ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩৫ শতাংশ সমুদ্রপথে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এই রুটে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দিনে প্রায় এক কোটি ব্যারেল কমে গেছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সংস্থাটির বেসলাইন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের গড় দাম প্রতি ব্যারেল ৮৬ ডলারে উঠতে পারে। চলতি বছরে এর গড় মূল্য ছিল ৬৯ ডলার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।জ্বালানি খাতের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যয়ের ওপরও এর প্রভাব পড়বে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আগামী বছরে সারের দাম গড়ে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইউরিয়া সারের মূল্য ৬০ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সময়ে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনসহ বিভিন্ন শিল্পধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিতে পারে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দর বাড়ার ধারণা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোয় আগামী বছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। তবে পরিস্থিতি খারাপ হলে তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আছে। একই সঙ্গে এসব দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেমে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন