রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পণ্য পরিবহনে বাড়তি ভাড়ার ধাক্কা নিত্যপণ্যের বাজারে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৩, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

পণ্য পরিবহনে বাড়তি ভাড়ার ধাক্কা নিত্যপণ্যের বাজারে

ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাবে দেশের পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ঢাকার সঙ্গে বিভিন্ন রুটে ট্রাক ভাড়া প্রতি ট্রিপে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই বাড়তি খরচের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সবজির আড়ত থেকে শুরু করে খুচরা বাজারেও।দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন সবজি আসছে রাজধানীতে। 

সন্ধ্যার পর রওনা হওয়া এসব ট্রাক শুধু সবজিই নয়, সঙ্গে নিয়ে আসছে ডিজেলের দাম বাড়ার অতিরিক্ত চাপ। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ার পর ঢাকার সঙ্গে বিভিন্ন রুটে ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ১০ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বাড়তি ভাড়ার এই প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যসহ সব খাতের বাজারে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা থেকে ঢাকার দূরত্ব ২৩৭ কিলোমিটার। ১৫ মেট্রিক টন সবজি বোঝাই একটি ট্রাক ঢাকায় পৌঁছাতে ৫২ দশমিক ৫ লিটার ডিজেল লাগে। লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা দরে জ্বালানি ব্যয় আগের চেয়ে বেড়েছে প্রায় ৮০০ টাকা। 

তবে পরিবহনে বাড়তি ভাড়া যুক্ত হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এতে প্রতি কেজি সবজি পরিবহনে খরচ বেড়েছে প্রায় এক টাকা। আড়তদার ও ট্রাকচালকরা জানিয়েছেন, সাতক্ষীরা থেকে আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ২০ হাজার টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার টাকায়।ঢাকার বাজারে হিসাব অনুযায়ী এক টাকা বাড়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় তিন টাকা। তাঁদের দাবি, আগে কেজিপ্রতি পরিবহন খরচ ছিল তিন টাকা, যা এখন বেড়ে হয়েছে ছয় টাকা। পাশাপাশি ক্যারিং খরচও আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

চালের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গাড়ির সংকট এবং জ্বালানি নিতে অতিরিক্ত সময় লাগায় মোকামভিত্তিক ১৫ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার ট্রাকে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। এতে ৫০ কেজির বস্তায় হিসাব করলে ১৬ থেকে ১৭ টাকা বাড়ার কথা থাকলেও খুচরা বাজারে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত। আড়তদাররা বলছেন, মোকামভেদে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এর চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই পড়ছে।

জ্বালানির দাম বাড়ার সুযোগ নিয়ে ভোক্তার পকেট কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ক্যাবের সহ-সভাপতি নাজির আহমেদ বলেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লোকজন অনেক সময় দেখেও না দেখার ভান করে। এই অনৈতিক চর্চা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বয়হীনতা দূর করে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুনত্ব আনা না গেলে এই চাপ আরও বাড়বে।