বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ভারতে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১৫, ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম

ভারতে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

ভারতে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকায় ভারতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। শুক্রবার থেকে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলো পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ রুপি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই দর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুটগুলোতে অস্থিতিশীলতার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নতুন দরে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৯৪ রুপি ৭৭ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ রুপি ৭৭ পয়সায়। একইভাবে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৮৭ রুপি ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ রুপি ৬৭ পয়সায়। দিল্লির পাশাপাশি দেশটির অন্য তিনটি প্রধান মেট্রো শহরেও জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। 

কলকাতায় পেট্রোলের নতুন দাম এখন ১০৮ রুপি ৭৪ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯৫ রুপি ১৩ পয়সা। মুম্বাইয়ে পেট্রোল ও ডিজেল যথাক্রমে ১০৬ রুপি ৬৮ পয়সা এবং ৯৩ রুপি ১৪ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। চেন্নাইয়েও এই দাম বেড়ে হয়েছে যথাক্রমে ১০৩ রুপি ৬৭ পয়সা ও ৯৫ রুপি ২৫ পয়সা। শহরভেদে এই দাম বৃদ্ধির পরিমাণ ২ রুপি ৮৩ পয়সা থেকে ৩ রুপি ২৯ পয়সা পর্যন্ত লক্ষ্য করা গেছে।

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি দিল্লিতে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজির দামও কেজিপ্রতি ২ রুপি বাড়ানো হয়েছে। আগে দিল্লিতে প্রতি কেজি সিএনজির দাম ৮৫ রুপি থাকলেও শুক্রবার থেকে তা ৮৭ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়লে মালবাহী ট্রাক ও কৃষি যন্ত্রপাতির খরচ সরাসরি প্রভাবিত হয়, যা স্থানীয় বাজারে পণ্যমূল্যের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও ভারতের আমদানি করা তেলের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৯ ডলারের কাছাকাছি। 

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটগুলো কার্যত বন্ধ বা অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়েছে এবং দাম হু হু করে বেড়েছে।ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে ক্রমবর্ধমান লোকসান সত্ত্বেও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ায়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ১১০ ডলারের ওপর তেলের দাম স্থিতিশীল হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা মূল্য সমন্বয়ের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে। ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান এই ৩ রুপি বৃদ্ধি তেলের বাজারদরের চাপের একটি সামান্য অংশ মাত্র। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট খাত সংশ্লিষ্টরা।

দেশটিতে সর্বশেষ ২০২২ সালের এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কেবল একবার দাম কিছুটা কমানো হয়। তবে বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা ভারতীয় রুপির ওপরও চাপ তৈরি করছে। তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় অংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। কয়েকটি রাজ্য এরই মধ্যে গণপরিবহন ব্যবহার ও ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যাতে তেলের চাহিদা কিছুটা কমানো যায়।