রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বাজেটে সুখবর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বাজেটে সুখবর

দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার ঘোষণা এসেছে নতুন বাজেটে। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সরকার এবার সুবিধাভোগীর মোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পাশাপাশি মাসিক ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধির বড় পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারের এই কল্যাণমুখী মানবিক সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামীণ ও শহরের নিম্ন আয়ের লাখো পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে।বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই সুখবর দেন।

নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকারের প্রথম এই লোকমুখী মেগা বাজেটের সর্বমোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে রেকর্ড ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা থেকে জানা গেছে, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে আরও বাড়িয়ে এবার মোট ৩৮ লাখ ব্যক্তিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের মাসিক ব্যক্তিগত ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করে ন্যূনতম ১ হাজার টাকা করার কড়া প্রস্তাব আনা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ভাতার আওতা এক লাখে উন্নীত করে স্তরভেদে মাসিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশের প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সব সিনিয়র সিটিজেনের জন্য ট্রেনের যাতায়াত ভাড়া সম্পূর্ণ ফ্রি বা বিনামূল্যে করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার দ্রুতগতির মেট্রোরেল ভাড়ার ক্ষেত্রেও প্রবীণদের জন্য ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড়ের সুবিধা যুক্ত হচ্ছে। দেশের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‍‍`ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি‍‍`র আওতায় প্রথম দফায় ১ লাখ নারীকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ ভাতা প্রদানের জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রচলিত বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের মাসিক ভাতাও বরাবরের মতো পুরোপুরি সচল থাকবে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিশাল মেগা বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে সামগ্রিক আয় ও ব্যয়ের হিসাবে নিট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে পূরণের সুনির্দিষ্ট ছক কষা হয়েছে।