জুন ১৩, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তীব্র জ্বালানিসংকট, দুর্বল বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং ব্যাংক খাতের নানামুখী চাপের মধ্যে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্য অর্জন করা বেশ কঠিন হবে। এই বিশাল অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সবার আগে দেশের বেসরকারি খাতে স্থবিরতা দূর করে দ্রুত আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত `জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা` শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই মূল্যায়ন তুলে ধরেছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ।সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ডক্টর ফাহমিদা খাতুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।তিনি জানান, দেশের ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে একটি নিম্নমুখী ধারার মধ্যে আটকে রয়েছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যবসায়ীদের একাংশের মাঝে এক ধরনের অনীহা ও আস্থার গভীর অভাব তৈরি হয়েছে, যা বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে নতুন বাজেটে ব্যক্তি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, অথচ চলতি অর্থবছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত অর্জিত হারের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এই বিশাল ব্যবধানই প্রমাণ করে যে দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি কতটা নাজুক ও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
বিগত প্রায় চার বছর ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে। নতুন অর্থবছরে এই মূল্যস্ফীতিকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জনে মুদ্রা ও রাজস্ব নীতির সুনির্দিষ্ট সমন্বয় প্রয়োজন। এই সংকট কাটাতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি আরও কিছুদিন শক্তিশালীভাবে চালিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। সরকারি প্রাক্কলনে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও বর্তমানের ৪ শতাংশের প্রকৃত ভিত্তির সঙ্গে এর মেলাবার উপায় স্পষ্ট নয়।
উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং বার বার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ানোর পুরনো প্রবণতা নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিপিডি। অনেক বড় বড় প্রকল্পে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত সুফল সময়মতো পাচ্ছে না। এর ওপর ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঘাটতি বাজেট মেটানোর জন্য অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের কারণে ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় ঋণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।
বিদেশি ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ দেশের অর্থনীতির ওপর আরও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার যেসব বড় বড় আকাঙ্ক্ষা এই বাজেটে দেখানো হয়েছে, তার সফল বাস্তবায়ন মূলত নির্ভর করছে দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন