অক্টোবর ২, ২০২৫, ১১:১০ পিএম
দেশজুড়ে কাঁচামরিচের উৎপাদন কম এবং বাজারে দেশীয় মরিচের সরবরাহ নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। আর এই আমদানি করা কাঁচামরিচ নিয়েই দেশের বাজারে চলছে ব্যাপক কারসাজি। দুই দিনের টানা বর্ষণের অজুহাতে কাঁচামরিচের দাম হঠাৎ করেই দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।কারওয়ান বাজারের একজন দোকানি রোমান মিয়া জানান, টানা ভারী বৃষ্টি এবং পূজার ছুটির কারণে আমদানি বন্ধ থাকায় হঠাৎ সরবরাহ কমেছে, আর এতেই দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। তিনি নিশ্চিত করেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪৪০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি কারসাজি চক্র আমদানি করা কাঁচা মরিচে ভোক্তাদের পকেট কেটে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নিচ্ছে। গত ৭ দিন আগেও যে কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে, গত তিন দিন থেকে তা হঠাৎ বেড়ে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার দিনভর তা সর্বোচ্চ ৪৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
ক্রেতা মোবারক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বাজারে কাঁচা মরিচ নেই বললেই চলে। অনেক ঘোরাঘুরির পর ৩২০ টাকা কেজিতে ২৫০ গ্রাম মরিচ কিনেছি।" সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা কারসাজিতে লিপ্ত হয়ে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটছেন।
এই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে কাঁচামরিচ আমদানিকারকদের বক্তব্যেও। বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন বলেন, ভারত থেকে প্রতি কেজি মরিচ আমদানির পর সব খরচ মিলিয়ে বেনাপোল বন্দরে দাম দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ৮০ টাকার মতো। তাঁরা ২-১ টাকা লাভেই তা বিক্রি করছেন।
তিনি বলেন, "মধ্যসত্ত্বভোগীরা কারসাজি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে।" এ জন্য তিনি সরকারকে বাজারে মনিটরিং জোরদার করে এই কারসাজি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন