অক্টোবর ৩, ২০২৫, ১২:৩১ পিএম
জয়পুরহাটের বাজারে সবজির দাম এখন রীতিমতো আকাশছোঁয়া, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব কিছুতেই মিলাতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা। সবজি বিক্রেতাদের ভাষ্য, বর্ষার কারণে কৃষক পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
এদিকে, তিন দিন আগেও যে কাঁচামরিচের কেজি ছিল ২০০ টাকা, সেই মরিচ এখন কেজি প্রতি ৫০-৮০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে।শুক্রবার (৩ অক্টোবর) জয়পুরহাট শহরের তিনটি কাঁচাবাজারে সরেজমিন দেখা গেছে, একমাত্র পেঁপে ছাড়া কোনো সবজিই ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে শুধু ৩০ টাকা কেজি দরে।
বাজারের চিত্র ছিল এমন:
-
বেগুন, করলা: প্রতি কেজি ১০০ টাকা।
-
মিষ্টি লাউ, ঢ্যাঁড়স, পটোল, মুলা, চিচিঙ্গা: প্রতি কেজি ৬০ টাকা।
-
বরবটি, কাঁকরুল: প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকা।
-
শিম: প্রতি কেজি ২৪০ টাকা।
প্রায় সব সবজিতেই কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা দাম বেড়েছে। এছাড়াও পেঁয়াজ বেশ কিছু দিন ধরেই ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।সবজির দাম এত বেশি কেন, এমন প্রশ্নে যখন বিক্রেতারা বর্ষাকে দায়ী করছেন, তখন ক্রেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেনজয়পুরহাট শহরের পূর্ব কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা ময়নুল ইসলাম ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, "আকাশে মেঘ দেখলেই সবজির দাম বাড়ে।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন কী বৃষ্টি হচ্ছে যে ২০০ টাকার মরিচ ২৫০ টাকা হবে?
শহরের সরদারপাড়া এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহিন বলেন, "কাঁচাবাজারে তরকারি কিনতে গেলে বাজারের হিসাব আর ঠিক থাকে না। গত রোজার সময়ও এত দাম ছিল না।" দুর্গাদহের রিকশাচালক আমিনুর রহমানও জানান, গ্রামের বাজারেও দাম প্রায় শহরের মতোই চড়া, ফলে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতে তাঁর কষ্ট হচ্ছে।তবে সবজি ব্যবসায়ীরাও তাদের লোকসানের দিকটি তুলে ধরেছেন।
নতুনহাটের সবজি ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম জানান, বর্ষার কারণে বাজারে আমদানি কম হওয়ায় দাম বেশি। তারা কৃষকের কাছ থেকে কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করেন। সব সবজি বিক্রি না হলে তা পচে নষ্ট হয়, তাতে তাদের লোকসান হয়।পূর্ব বাজারের সবজি বিক্রেতা বাবু হোসেন বলেন, "এ সময় প্রতি বছর সবজির দাম চড়া থাকে। আর কিছুদিন পর বাজারে নতুন সবজি এলে তখন এ দাম থাকবে না।"



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন