বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য কম, বাড়ছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ০৪:০২ পিএম

অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য কম, বাড়ছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা

ছবি - সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য কমে যাওয়ায় কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও বহু তরুণ-তরুণী কাঙ্ক্ষিত কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। ঐতিহাসিকভাবে দেশের কর্মসংস্থানের বিপুল যোগান আসে মূলত দুটি খাত থেকে—তৈরি পোশাক এবং রেমিট্যান্স। কিন্তু পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে এই দুই খাতেই উন্নতি তো দূরের কথা, উল্টো সংকট আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত পোশাক খাত এখন নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একসময় সস্তা শ্রমকে পুঁজি করে এই খাত বিকশিত হলেও এখন বাস্তবতা ভিন্ন। এই খাতে কাজের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে এবং উৎপাদন কমে গেছে। তথ্য বলছে, গত এক বছরে শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক সরাসরি বেকার হয়ে পড়েছেন।

নতুন কিছু কারখানা চালু হলেও তা বন্ধ হওয়া কারখানার তুলনায় নগণ্য। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন। তিনি জানান, ১০০টি কারখানা বন্ধের বিপরীতে হয়তো ৩০টি নতুন কারখানা চালু হচ্ছে। ফলে বন্ধ হওয়া কারখানার বিপুল সংখ্যক শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না, যা তাদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, বাংলাদেশ মূলত তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স—এই দুটি প্রবৃদ্ধি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার উভয়টিরই প্রধান উপাদান সস্তা শ্রম। তিনি নতুন প্রবৃদ্ধির চালক খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বাংলাদেশ এখনো তেমন সাফল্য দেখাতে পারেনি। দক্ষতা অর্জনে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারছে না।

ড. হোসেন জিল্লুরের মতে, বেকারত্ব হ্রাস কোনো স্বল্পকালীন প্রকল্পের বিষয় নয়, এটি অর্থনীতির চাকাকে বিকল্পভাবে বেগবান করার একটি সার্বিক প্রয়াস। বর্তমানে সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ায় এবং অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বিনিয়োগও থমকে আছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্রুত উৎপাদন ব্যবস্থায় গতি ফেরাতে না পারলে এই কর্মহীনতা সামাজিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলবে।