রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বেরোবিতে ভিসি-রেজিস্ট্রার দ্বন্দ্ব: শিবির ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে

রকিবুল হাসান মুন্না

জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

বেরোবিতে ভিসি-রেজিস্ট্রার দ্বন্দ্ব: শিবির ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে

ছবি-দিনাজপুর টিভি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উপাচার্য (ভিসি) এবং রেজিস্ট্রারকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসনিক অনিয়ম, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, নিয়োগ দুর্নীতি ও শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) আলাদা আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে দুই সংগঠন নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।

ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কালক্ষেপণের অভিযোগ (শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থী): রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সংবাদ সম্মেলন করেন শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীরা। তারা উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও উপাচার্য কৌশলগতভাবে সময় ক্ষেপণ করে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এড়িয়ে গেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুচ্ছ পদ্ধতির বাইরে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে যে আয় হয়, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে যুক্ত করা হয় না। এছাড়া শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। উপাচার্য একটি বিশেষ মহলের ওপর নির্ভর করে অনিয়ম আড়াল করছেন বলেও তারা দাবি করেন।রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অসহযোগিতার অভিযোগ (ছাত্রদল): অন্যদিকে সকাল সাড়ে ১১টায় পৃথক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে বেরোবি শাখা ছাত্রদল।

ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা বলেন, “অবৈধ রেজিস্ট্রারের কারণে ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি একটি ‘গুপ্ত গোষ্ঠী’ ও তাদের ছাত্রী সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।” ছাত্রদলের দাবি, রেজিস্ট্রারের অসহযোগিতার কারণেই আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা সংশোধন আটকে আছে। তারা আরও বলেন, উপাচার্য ড. শওকাত আলীর নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে আবু সাঈদ গেট ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ চলছে, যা বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।

ভিসি ও রেজিস্ট্রার ইস্যুতে দুই ছাত্র সংগঠনের এমন বিপরীতমুখী অবস্থান ও প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়িতে বেরোবির প্রশাসনিক স্থবিরতা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।