মার্চ ১৪, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
২০২৫ সালের স্থগিত হয়ে থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে পারে বলে একটি সম্ভাব্য সময়সূচি জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন এই পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া থমকে থাকলেও বর্তমানে তা কাটিয়ে ওঠার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি দেশজুড়ে একযোগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের জন্য মোট পাঁচটি বিষয়ে চারশ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে একশ নম্বর করে এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে মূল্যায়ন করা হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে সর্বশেষ এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালে। সাধারণত ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বা পিইসি পরীক্ষা চালু হওয়ার পর থেকে পৃথকভাবে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং পিইসির ফলাফলের ভিত্তিতেই বৃত্তি প্রদান করা হতো।
গত বছর সরকার আবারও বৃত্তি পরীক্ষা চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু শুরুতে শুধু সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ায় একটি বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে বেসরকারি বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবকরা হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন।আদালতের এই নির্দেশনার পর পূর্বের সময়সূচি স্থগিত করা হয় এবং নতুন করে সব প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু হয়।
বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন যে ২০২৫ সালের স্থগিত থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাটি ২০২৬ সালের এপ্রিলে সফলভাবে সম্পন্ন করা হবে। এতে সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের অনুমোদিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। এই ঘোষণার ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং তারা নতুন উদ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন