রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ১০:২১ এএম

এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা

পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা।

আগামী ডিসেম্বরে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ঘোষণা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরীক্ষার মাত্র ৬ মাস বাকি থাকলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি শিক্ষা বোর্ডগুলো। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন সেশনজট কমাতে ডিসেম্বরেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানান। এরপর গত ২৫ এপ্রিল সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। 

তবে এই ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোতে কোনো লিখিত নির্দেশনা পৌঁছায়নি।আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির মঙ্গলবার জানান, ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষার বিষয়ে তাঁরা সরকারের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা পাননি। 

বোর্ডগুলোর মতামতও এখন পর্যন্ত চাওয়া হয়নি। তিনি বলেন, মতামত চাওয়া হলে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানান তিনি।ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, শিক্ষামন্ত্রীর মৌখিক ঘোষণা অনুযায়ী তাঁরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ বিষয়ে বুধবার একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে একই মাসে এসএসসি ও এইচএসসি—উভয় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মো. নূরুল হক বলেন, সেশনজট কমাতে পরীক্ষা এগিয়ে আনা ইতিবাচক উদ্যোগ। 

তবে এটি একবারে না করে ধারাবাহিকভাবে করলে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাই ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারত। এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় তাঁরা প্রস্তুতি শুরু করতে পারছেন না।মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় এগিয়ে আসায় সিলেবাস শেষ করা নিয়ে চরম মানসিক চাপে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানায়, সৃজনশীল সিলেবাসে অনেক পিছিয়ে রয়েছে তারা। বছরের শুরুতে পরীক্ষার এই সময় জানা থাকলে প্রস্তুতি ভিন্ন হতো বলে জানায় আরেক শিক্ষার্থী মেহ্রুজ নাফিসা। তাদের দাবি, সময় পাল্টে যাওয়ায় তারা এখন বুঝে উঠতে পারছে না কীভাবে প্রস্তুতি নেবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা কিশোর শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জিল্লুর রহমান জানান, বারবার পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন ও আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে পড়তে পারে।অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে হলে তা পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে হওয়া উচিত। বিশেষ করে পাবলিক পরীক্ষার সূচি অনেক আগে থেকে নির্দিষ্ট না থাকলে শিক্ষার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই এই অনিশ্চয়তার মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।