মে ১৩, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) হলে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাতে ওই শিক্ষার্থী হলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তাঁর পিছু নেন। পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরিচয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে পাশের বিশমাইল এলাকায় থাকেন বলে জানান। কথোপকথনের একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি কাপড় দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর গলা পেঁচিয়ে পাশের একটি অন্ধকার স্থানে টেনে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কোনোভাবে নিজেকে ছাড়িয়ে সড়কে উঠে আসলে পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর হোসেন জানান, ওই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নেওয়া হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ক্যাম্পাসের অন্যান্য জায়গার ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম জানান, রাত সোয়া ১১টার দিকে আল বেরুনী এক্সটেনশন ও পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের মধ্যবর্তী স্থানে এই ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীকে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে অন্ধকার স্থানে টেনে নেওয়া হচ্ছে। প্রায় দুই মিনিট পর শিক্ষার্থীর চেষ্টায় তিনি রক্ষা পান। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তের এক জোড়া জুতা ও ব্যবহৃত নেট উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জাকসু নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংস্কার এবং বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না হলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন