রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিশ্বমঞ্চে জামদানিতে মিথিলার চমক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৪:৫১ পিএম

বিশ্বমঞ্চে জামদানিতে মিথিলার চমক

বাংলাদেশি মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা এখন মিস ইউনিভার্সের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বেশ কিছুদিন আগে বিকিনি পরে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার একেবারে ভিন্ন লুকে ধরা দিলেন এই সুন্দরী। মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় জামদানি পরে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি নিজের অনুভূতি ও পোশাকের বিশেষত্ব প্রকাশ করে মিথিলা নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মিস ইউনিভার্স মঞ্চের জাতীয় পোশাকটি সজ্জিত হয়েছে একটি রাজকীয় জামদানি শাড়িতে, যা বাংলাদেশের রাজকীয় ঐতিহ্যের এক জীবন্ত উত্তরাধিকার।’

তিনি উল্লেখ করেন, মুঘল সম্রাট, নবাব এবং বাংলার অভিজাতদের জন্য বোনা এই জামদানি শাড়ি শত শত বছরের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং সাংস্কৃতিক গর্বের প্রতীক।

তার কথায়, এটি এমন একটি কাপড়, যার প্রতিটি সুতোয় রয়েছে শিল্পকলা, নিষ্ঠা এবং চিরন্তন কমনীয়তা।বাংলার কালজয়ী তাঁত থেকে উদ্ভূত এই বিশেষ জাতীয় পোশাকটি সম্পূর্ণ হাতে বোনা। এর ঐতিহ্য শুরু হয়েছিল ১৭ শতকের মুঘল যুগ থেকে। সেসময় জামদানি বিলাসিতা এবং রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। জানা যায়, পোশাকটি তৈরিতে সেরা সুতির তন্তু ব্যবহার করা হয়েছে এবং স্বর্ণালি জরি মোটিফে সজ্জিত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী তাঁতশিল্পীদের দ্বারা নিপুণভাবে বোনা হয়েছে এই বিশেষ শাড়িটি, যা জামদানির জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত।

মিথিলার পরা এই বিশেষ শাড়িটি ডিজাইন করেছেন আফ্রিনা সাদিয়া সৈয়দা। শাড়িটির ডিজাইনার জানান, এই বিশেষ শাড়িটি সম্পূর্ণ হাতে তৈরি এবং এটি সম্পূর্ণ করতে সময় লেগেছে ১২০ দিনেরও বেশি। শাড়িটিতে স্নিগ্ধ শাপলা মোটিফ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শাপলা হলো বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। শুধু পোশাকেই নয়, মিথিলার স্বর্ণের গয়নাতেও শোভা পেয়েছে একই শাপলা ফুল, যার নকশা করেছেন ৬ ইয়ার্ডস স্টোরি লরা খান। বিশ্বমঞ্চে ঐতিহ্যবাহী এই পোশাকে মিথিলা বাংলাদেশের গৌরব তুলে ধরেছেন।