শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬,

১ মিলিয়ন মানুষের এই ভালোবাসা দায়িত্বের: ওবায়দুল্লাহ তারেক

বিনোদন ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

১ মিলিয়ন মানুষের এই ভালোবাসা দায়িত্বের: ওবায়দুল্লাহ তারেক

ছবি: সংগৃহীত

সংগীত, সাহিত্য, শিক্ষা ও সাংবাদিকতায় দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ লাখ অনুসারীর নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওবায়দুল্লাহ তারেক। তার গান, চিন্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দর্শক ও শ্রোতাদের মধ্যে গড়ে ওঠা গভীর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে এই অর্জনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এটি তার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতি ভক্তদের ভালোবাসার প্রমাণ। পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার মধুপুর গ্রামে শৈশব থেকেই সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠেন ওবায়দুল্লাহ তারেক। পরবর্তীকালে ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি তিনি একজন নন্দিত গীতিকার, সুরকার, শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। তার কণ্ঠে পরিবেশিত ‍‍`তুমি আসমানে থাকো প্রভু, আমি জমিনে‍‍`, ‍‍`বাবা তুমি কেমন আছো ছোট্ট মাটির ঘরে‍‍`, ‍‍`মাওলা তোমারও লাগিয়া কাঁদে আমার প্রাণ‍‍`, ‍‍`বাজান আমার ঔষধ শেষ‍‍`, ‍‍`দে দে পাল তুলে দে‍‍` এবং ‍‍`নির্ঘুম এ রাত জেগে আছে চাঁদ‍‍` গানগুলো শ্রোতামহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

শিল্পচর্চার পাশাপাশি সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তার অবদান রয়েছে। তিনি সৃজন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চন্দ্রালোক মিডিয়া কর্পোরেশন, ক্লাসিক ওয়ার্ল্ড সঙ্গীত একাডেমি এবং ইলহাম ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন এবং বেশ কিছু জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠানের টাইটেল গানও রচনা করেছেন।

শিক্ষাজীবনে পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর তিনি সাংবাদিকতায় উচ্চতর পাঠ নেন। এরপর কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কাতার, সৌদি আরব ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে একাধিক আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

এই প্রাপ্তি প্রসঙ্গে ওবায়দুল্লাহ তারেক জানান, একজন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা। দশ লাখ মানুষের এই সম্পৃক্ততা একই সঙ্গে আনন্দের ও নতুন দায়িত্বের। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই প্ল্যাটফর্মকে নিছক বিনোদনের বদলে সুস্থ সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও ইতিবাচক জীবনবোধ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চান। তিনি মনে করেন, এই অর্জনের মূল অংশীদার তার প্রতিটি কাজের সাথে যুক্ত থাকা শ্রোতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।আগামী দিনে সংগীত, শিক্ষা ও গণমাধ্যমের যৌথ সমন্বয়ে নতুন প্রজন্মের মাঝে পরিশীলিত সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।