অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
ভারতের মুম্বাইয়ে মিঠি নদীর পলি অপসারণ প্রকল্পের কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় বলিউড অভিনেতা দিনো মোরিয়াকে দ্বিতীয় দফায় দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মুম্বাই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা বা ইওডব্লিউ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে একই মামলার তদন্তে দিনো মোরিয়া এবং তাঁর ভাই সান্তিনো রোকো মোরিয়াকে প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
মামলার সাথে যুক্ত কয়েকজনের সাথে দিনো মোরিয়ার ধারাবাহিক যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে মামলার এজাহারভুক্ত বেশ কয়েকজন অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে অভিনেতার টেলিফোন রেকর্ডে যোগাযোগের প্রমাণ মেলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিক তলব করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিনো মোরিয়া, তাঁর ভাই সান্তিনো রোকো মোরিয়া এবং এই মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া কেতন কাদমের স্ত্রী পুনিতা কাদম `ইউবিও রাইডজ প্রাইভেট লিমিটেড` নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে যুক্ত ছিলেন। কেতন কাদম ও সান্তিনো রোকো মোরিয়ার মধ্যকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি বর্তমানে গভীরভাবে পরীক্ষা করছেন গোয়েন্দারা। একই সাথে কেতন কাদমের মালিকানাধীন ড্রেজিং প্রতিষ্ঠান `ওয়োডার ইন্ডিয়া এলএলপি` ঠিক কীভাবে মুম্বাইয়ের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নদী খননের সরকারি কাজের চুক্তি পেয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ার বৈধতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ মামলায় গত ৭ মে অভিযুক্ত কেতন কাদমকে গ্রেপ্তার করে তদন্তকারী সংস্থা। মিঠি নদীর পলি অপসারণের দায়িত্ব পালনকালে ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন বা বিএমসির প্রায় ৬৫ কোটি ৫৪ লাখ রুপি আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে এই নিয়মিত মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অনৈতিক আর্থিক লেনদেন, টেন্ডারের মূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানো এবং দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা মুম্বাইভিত্তিক একটি শিল্পপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান `ভার্গো স্পেশালিটিজ প্রাইভেট লিমিটেডের` সাথে যুক্ত জয়েশ জোশি নামের আরেক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
গোয়েন্দা তদন্তে দরপত্র প্রক্রিয়ায় গুরুতর কারসাজির চাঞ্চল্যকর প্রমাণ উঠে এসেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে বিএমসির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নদী থেকে পলি অপসারণের ভারি যন্ত্রপাতি কিনতে কেরালার কোচিতে অবস্থিত `ম্যাটপ্রপ টেকনিক্যাল সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড` নামের একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে খনন কাজের জন্য যে আনুষ্ঠানিক দরপত্র আহ্বান করা হয়, তাতে যন্ত্রপাতির এমন কিছু সুনির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন বা কারিগরি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যা কেবলমাত্র ম্যাটপ্রপের সরঞ্জামের সাথেই হুবহু মিলে যায়। এর ফলে অন্যান্য ঠিকাদারদের ওই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জাম ব্যবহার করতে বাধ্য করার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী নদী থেকে তোলা পলি ও ড্রেজের মোট ওজনের ভিত্তিতে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের বিধান রাখা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অন্য ঠিকাদাররা যখন ম্যাটপ্রপের সাথে যোগাযোগ করেন, তখন তাদের সরাসরি জয়েশ জোশি ও কেতন কাদমের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। অভিযোগ উঠেছে যে তারা মূল প্রতিষ্ঠানের সাথে আঁতাত করে মেশিন বিক্রি না করে অস্বাভাবিক চড়া ভাড়ায় ঠিকাদারদের কাছে সরবরাহ করেছিলেন।
স্থানীয় সংস্থার অভ্যন্তরীণ নথিপত্রে কারসাজি করে পলির পরিমাপ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল।
মিঠি নদীর ১৭ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশের পলি অপসারণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে বিজেপি নেতা প্রসাদ লাড ও প্রবীণ দারেকর প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানানোর পর ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে একটি বিশেষ তদন্ত দল বা সিট গঠন করে অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, নদী থেকে অপসারণ করা পলির পরিমাণ কৃত্রিমভাবে অতিরিক্ত দেখিয়ে সরকারি নথিতে গরমিল করা হয়েছিল। এর ফলে ঠিকাদারদের কাজ না করেই কাগজে-কলমে অতিরিক্ত উত্তোলনের হিসাব দেখিয়ে সরকারি তহবিল থেকে বাড়তি অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয় বলে দিনাজপুর টিভি ডট কম-এর আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন