শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হঠাৎ খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে জীবন বাঁচাতে করণীয়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

হঠাৎ খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে জীবন বাঁচাতে করণীয়

খিঁচুনি রোগীর সেবা

হঠাৎ কোনো মানুষ খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে আশপাশের পরিস্থিতি মুহূর্তেই আতঙ্কিত ও বিশৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে। এমন জরুরি মুহূর্তে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঠিক সিদ্ধান্ত এবং দ্রুত প্রাথমিক পদক্ষেপ একজন আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। জনস হপকিন্স মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, খিঁচুনির সময় আক্রান্ত ব্যক্তির হাত-পা হঠাৎ ঝাঁকুনি দেওয়া, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা কিংবা দ্রুত চোখের পলক ফেলার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 

অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ পড়ে যান কিংবা তার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এমনকি মল বা মূত্র ত্যাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং শেষ পর্যন্ত অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। এই লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করতে পারা প্রাথমিক চিকিৎসার প্রথম ধাপ।

ভারতের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট ডা. প্রভীন গুপ্তা এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, খিঁচুনি দেখে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকাই পরিস্থিতি সামলানোর মূল চাবিকাঠি। 

প্রথম কাজ হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত একটি নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া বা তার আশপাশে থাকা আসবাবপত্র ও ধারালো বস্তু সরিয়ে ফেলা। এতে অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়ার কারণে শরীরে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলতো করে একপাশে ফিরিয়ে শুইয়ে দিতে হবে এবং তার মাথার নিচে একটি নরম কাপড় বা বালিশ দিতে হবে। এই কৌশলের ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসনালি পরিষ্কার থাকে এবং শ্বাসকষ্ট বা দম আটকে যাওয়ার ভয় থাকে না।

সাধারণত একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর শক্ত করে চেপে ধরলে খিঁচুনি থামানো সম্ভব। এটি একটি মারাত্মক ভুল পদ্ধতি। জোর করে শরীর নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং সাহায্যকারী উভয়েরই হাড় ভেঙে যাওয়ার বা বড় ধরনের আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খিঁচুনি তার নিজস্ব গতিতেই চলতে দেওয়া উচিত এবং তা নিজে থেকেই থেমে যায়। যদি আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য আগে থেকেই কোনো জরুরি ওষুধ যেমন মিডাজোলাম ন্যাজাল স্প্রে নির্ধারিত থাকে, তবেই সেটি চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করা যেতে পারে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খিঁচুনি দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে থেমে যায়। তবে এই সময়টি ঘড়ি ধরে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। যদি খিঁচুনি তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় কিংবা একবার থেমে যাওয়ার পর পুনরায় অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার শুরু হয়, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এই সময়ে আরেকটি সাধারণ ভুল হলো আক্রান্ত ব্যক্তির মুখে চামচ, আঙুল বা কাপড় ঢোকানোর চেষ্টা করা। এই ধরনের কাজ করলে আক্রান্ত ব্যক্তির দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ এবং সহানুভূতিশীল আচরণই এই সংকট মুহূর্তে একজন মানুষের নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি।