এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১২:১১ পিএম
রাজধানীতে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রামক রোগের কারণে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এখন চরমে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) পরিচালিত হাম ডেডিকেটেড হাসপাতালে প্রতিদিন রেকর্ড সংখ্যক নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১২৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে এই একটি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪৮৪ জন। চলমান এই প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার একশ ছাড়িয়ে গেছে। সংক্রমণের পাশাপাশি মৃত্যুর মিছিলেও নতুন নাম যোগ হচ্ছে। গত এক দিনে আরও ২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে এই রোগের প্রকোপে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে। তবে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১৭ জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামে আক্রান্তদের একটি বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে ছিল অথবা কোনো কারণে তাদের হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এটিই সংক্রমণের তীব্রতা বাড়ার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। হামের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। পরবর্তীতে আক্রান্ত শিশুর সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ছে, যা এই রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কোনো শিশুর মধ্যে হামের নূন্যতম লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের দ্রুত সুরক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণের চেইন ভাঙতে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোসহ বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন