রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃ‍‍`ত্যু

স্বাস্থ্য ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃ‍‍`ত্যু

দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। সংক্রমণের এই ভয়াবহ গতির মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণেই হয়েছে এবং বাকি ৩ জন হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। 

শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়।মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, সংক্রমণের তীব্রতা বাড়ার পেছনে মূলত হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থার অভাবই প্রধান কারণ। 

আক্রান্ত শিশুদের মাধ্যমে এই অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগটি দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। 

এতে সুস্থ শিশুদের মধ্যেও নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত পৃথক রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ওপর জোর দিচ্ছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫৫৯ জনে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৪ হাজার ২৩১ জনের শরীরে হামের জীবাণু নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা গেছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ মিলিয়ে মোট ২৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

 

বর্তমানে ১ হাজার ২১৫ জন নতুন রোগী শনাক্তের পাশাপাশি কয়েক হাজার শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।চিকিৎসকদের মতে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়ার ফলে বর্তমানে প্রাদুর্ভাবের আকার নিচ্ছে। শিশুদের হঠাৎ তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 

আক্রান্ত শিশুকে সুস্থদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এই সংক্রমণ রোধের প্রধান উপায়। সরকারি পর্যায় থেকে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করা হলেও দ্রুত আইসোলেশন ও টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা না গেলে সামনের দিনগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।