এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২৮৭ জন। শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে সংক্রমণের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এই ১১ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত একদিনে হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এই বিভাগে ৫টি শিশু মারা গেছে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৪৬০ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগী মিলিয়ে মোট ২০ হাজার ৪৭৫ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন।
চিকিৎসা শেষে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৮১ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদী পরিসংখ্যানে মৃত্যুর হার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে এমন ৪২ জন রোগী মারা গেছেন। অন্যদিকে, হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ২০৯ জন শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনাই শিশুদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকায় টিকাদান কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং শিশুদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সংক্রমণের হার বাড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত আইসোলেশন এবং নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। সংক্রামক এই রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও টিকার আওতা বাড়ানোর কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন