বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,

ক্যানসারের ওষুধ শরীরে কাজ করছে কি না বুঝবেন কীভাবে?

স্বাস্থ্য ডেস্ক

মে ১৭, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

ক্যানসারের ওষুধ শরীরে কাজ করছে কি না বুঝবেন কীভাবে?

মেডিকেল ইমেজিং পরীক্ষা

ক্যানসারের ওষুধ শরীরে ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা বোঝার জন্য নিয়মিত ফলো-আপ পরীক্ষা করা জরুরি। আজ রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত এক চিকিৎসা নির্দেশনায় জানানো হয়েছে যে শারীরিক উপসর্গ, ইমেজিং টেস্ট এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে মূলত ওষুধের কার্যকারিতা নির্ধারণ করা হয়। সঠিক সময়ে সঠিক পরীক্ষা না করালে চিকিৎসায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ইমেজিং টেস্টের মধ্যে সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা পিইটি স্ক্যান অন্যতম।এই আধুনিক পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে শরীরের ভেতরের মূল টিউমারটি আগের চেয়ে আকারে ছোট হয়েছে কি না বা নতুন কোনো জায়গায় ছড়িয়েছে কি না তা দেখা হয়। 

টিউমার সংকুচিত হলে ওষুধ ইতিবাচকভাবে কাজ করছে বলে ধরে নেওয়া হয়, অন্যথায় থেরাপির পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সিএ ১২৫, পিএসএ বা সিইএর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্যানসার মার্কারের মাত্রা কমেছে কি না তা নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করা হয়। এই মার্কারগুলোর নিয়মিত নিম্নমুখী হার থেরাপির কার্যকারিতার একটি অত্যন্ত বড় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ।

শরীরে ক্যানসারের ওষুধ সঠিকভাবে সাড়া দিলে রোগীর শারীরিক উপসর্গেরও স্পষ্ট এবং দৃশ্যমান উন্নতি ঘটে থাকে। ক্যানসারজনিত কারণে হওয়া তীব্র শারীরিক ব্যথা, চরম দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে কমে আসে এবং স্বাভাবিক ক্ষুধা ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি রোগীর ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্তে হিমোগ্লোবিন, শ্বেতকণিকা বা অণুচক্রিকার মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা ওষুধ সচল থাকার লক্ষণ। চিকিৎসায় ক্যানসার কোষ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাওয়াকে কমপ্লিট রেসপন্স এবং আকার সংকুচিত হওয়াকে আংশিক রেসপন্স বলা হয়।

ক্যানসার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত কেমোথেরাপিতে সর্বোচ্চ ফল পেতে ডক্সোরুবিসিনসহ প্রায় আট ধরনের ওষুধের সমন্বয় করা হয়ে থাকে। এছাড়া টার্গেটেড থেরাপিতে ট্রাস্টুজুম্যাব এবং আধুনিক ইমিউনোথেরাপিতে পেমব্রোলিজুম্যাব বা নিভোলুম্যাব ইনজেকশন বাংলাদেশে বেশ কার্যকর। থেরাপির ফলে ক্লান্তি, চুল পড়া বা বমি ভাবের মতো সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা ওষুধ কাজ না করার একক প্রমাণ নয়। ক্যানসারের যেকোনো ওষুধ বা জটিল থেরাপি অবশ্যই অনকোলজিস্টের প্রত্যক্ষ পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।