শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মাইক্রোপ্লাস্টিক কী এবং মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার উপায়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

মাইক্রোপ্লাস্টিক কী এবং মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার উপায়

Ai - ছবি

সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করা থেকে শুরু করে পানি পান কিংবা নিত্যদিনের চলাফেরায় অজান্তেই মানবদেহে প্রবেশ করছে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক। খালি চোখে দৃশ্যমান না হলেও মানবদেহের রক্ত, ফুসফুস, যকৃত এবং মস্তিষ্কের টিস্যুতেও এর উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কেন্দ্রে থাকা এই অদৃশ্য কণা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।

সাধারণত পাঁচ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। প্রসাধনীতে ব্যবহারের জন্য সরাসরি ছোট আকারে তৈরি কণা এর একটি উৎস। অন্যদিকে বোতল, পলিথিন ও খাদ্য মোড়কের মতো নিত্যব্যবহার্য প্লাস্টিক দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর রোদ ও তাপে ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। খাবার, পানি ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে মূলত এই কণা শরীরে প্রবেশ করে।

সামুদ্রিক মাছ, বোতলজাত পানি ও চা-বাগের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়ছে।গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান শরীরে প্রবেশ করে হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে প্রদাহ, কোষের ক্ষতি এবং প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। শিশু ও গর্ভবতী নারীরা এই ঝুঁকির মুখে সবচেয়ে বেশি থাকেন।

সম্পূর্ণরূপে এটি এড়ানো অসম্ভব হলেও সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে শরীরে এর মাত্রা কমানো সম্ভব। প্লাস্টিকের বদলে কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার, গরম খাবার প্লাস্টিকে না রাখা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে কার্যকর নীতিমালা ও গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।