ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ০২:১৮ পিএম
বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ চালুর বিষয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। গত সোমবার আইসিটি বিভাগ, দেশের ফ্রিল্যান্স কমিউনিটি, বাক্কো এবং পেপ্যালের দক্ষিণ এশিয়া সিঙ্গাপুর অঞ্চলের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন এবং পেপ্যালের চারজন কর্মকর্তা সিঙ্গাপুর থেকে অংশ নেন।
ফ্রিল্যান্সারদের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পুরো আলোচনায় সরাসরি তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়।
বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্স বাজার, পেপ্যালের সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সুযোগ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিভিন্ন আয়ের উৎস নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। ফ্রিল্যান্সার প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক লেনদেনের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো, যেমন পেওনিয়ার, স্ট্রাইপ বা ওয়াইজ ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা, উচ্চ চার্জ, বিনিময় হার-সংক্রান্ত সমস্যা এবং সময়ক্ষেপণের মতো বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তারা ব্যাখ্যা করেন যে বাংলাদেশের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের প্রয়োজনীয়তা এখন অপরিহার্য।
যদিও পেপ্যালকে ঘিরে দেশে বহুবার আশাব্যঞ্জক ঘোষণা এসেছে, যা নীতিগত জটিলতা ও ব্যাংকিং কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়নি, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রথমবারের মতো পেপ্যালের আঞ্চলিক টিম সরাসরি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করছে এবং আইসিটি বিভাগ সক্রিয়ভাবে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই কারণে এবার আশা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে একটি সতর্ক বাস্তববোধ। পেপ্যাল সেবা চালু হলে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্স অর্থনীতি সরাসরি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে; এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ দ্রুত, নিরাপদ ও কম খরচে সম্ভব হবে।
অতিরিক্ত চার্জ, সময়ক্ষেপণ এবং জটিল মানি ট্রান্সফার প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে, যার ফলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়বে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে। ফ্রিল্যান্সার কাজী মামুনের ভাষায়, "চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সময়ের ব্যাপার, তবে আলোচনার আন্তরিকতা ও সরকারি সহায়তা আমাদের আশাবাদী করেছে। যদি নীতিগত বিষয়গুলোর সমাধান হয় এবং পেপ্যাল ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানায়, তাহলে এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হবে।
এছাড়া, স্টার্টআপ, সাস, ই-কমার্স ও অন্যান্য অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য গ্লোবাল পেমেন্ট গ্রহণ সহজতর হবে এবং পেপ্যালের উপস্থিতি ভবিষ্যতে স্ট্রাইপসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের পথও সুগম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন