রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাউটার নিয়ে এফবিআইয়ের সতর্কবার্তা: ঝুঁকিতে লাখো ব্যবহারকারী

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

রাউটার নিয়ে এফবিআইয়ের সতর্কবার্তা: ঝুঁকিতে লাখো ব্যবহারকারী

রাউটার নিরাপত্তা ঝুঁকি

ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই সম্প্রতি পুরনো রাউটার ব্যবহারকারীদের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হ্যাকাররা পুরনো এবং নিরাপত্তা আপডেটহীন রাউটারগুলোতে এভিরে কন নামক একটি শক্তিশালী ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দিচ্ছে। একবার এই ম্যালওয়্যার রাউটারে প্রবেশ করলে হ্যাকাররা সেই ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে সেগুলো সকস-এসকর্ট নামক রেসিডেনশিয়াল প্রক্সি সার্ভিসের কাছে বিক্রি করে দেয়। 

এফবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার রাউটার এই ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছে। এই হ্যাকিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার ইন্টারনেট প্রটোকল বা আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে নানা ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

হ্যাকাররা এই আক্রান্ত রাউটারগুলো ব্যবহার করে অনলাইন বিজ্ঞাপনে জালিয়াতি, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করা, পাসওয়ার্ড চুরি এবং ব্যাংকিং জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধ করছে। 

এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস ও রোমান্স জালিয়াতির কাজেও এই আইপিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। যেহেতু অপরাধগুলো আপনার রাউটার ও আইপি ব্যবহার করে করা হয়, তাই আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকিও থেকে যায়। এফবিআই বেশ কিছু নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও মডেলের রাউটারকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ডি-লিংক, নেটগিয়ার, টিপি-লিংক এবং জাইসেল ব্র্যান্ডের পুরনো মডেলগুলো রয়েছে। বিশেষ করে টিপি-লিংকের আর্চার সি-২০ এবং ডব্লিউআর-৮৪০ এন সিরিজসহ বেশ কিছু বহুল ব্যবহৃত রাউটার এই তালিকায় রয়েছে যেগুলো বর্তমানে নিয়মিত সিকিউরিটি আপডেট পাচ্ছে না।

আপনার রাউটারটি নিরাপদ কি না তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ ও এফবিআই কিছু পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, আপনার ব্যবহৃত রাউটারের মডেলটি এই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় আছে কি না তা যাচাই করতে হবে। যদি রাউটারটি অনেক পুরনো হয় এবং প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান থেকে আর কোনো নিরাপত্তা আপডেট না আসে, তবে সেটি পরিবর্তন করে ফেলাই সবচেয়ে নিরাপদ। 

এছাড়া নিয়মিতভাবে রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট করা এবং অস্বাভাবিক ইন্টারনেট ট্রাফিক লক্ষ্য করলে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাউটার ফ্যাক্টরি রিসেট বা রিবুট করলে সাময়িকভাবে সংক্রমণ দূর হতে পারে, তবে তা স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। সাইবার নিরাপত্তা বজায় রাখতে কেবল কম্পিউটার বা স্মার্টফোন নয়, বরং বাসার রাউটারটিও যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তা এই সতর্কবার্তা পুনরায় মনে করিয়ে দিচ্ছে।