এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
রোবোটিক্সের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে বেইজিং ই-টাউন হিউম্যানয়েড রোবট হাফ-ম্যারাথনে। প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবট শীর্ষস্থানীয় মানব ক্রীড়াবিদদের পেছনে ফেলে দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। গত রোববারের এই আয়োজনে মানুষের শারীরিক সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জয়ী হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির এই যন্ত্রমানবগুলো।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ১৯ এপ্রিল বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ দৌড় প্রতিযোগিতার নাম ছিল ‘হিউম্যান-রোবট জয়েন্ট রান’।
নিরাপত্তার খাতিরে বিশেষ প্রতিবন্ধক দিয়ে রোবট ও মানুষের ট্র্যাক আলাদা রাখা হলেও প্রতিযোগিতার আবহ ছিল বেশ তীব্র। সেখানে ১০০টিরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট প্রায় ১২ হাজার অভিজ্ঞ মানব দৌড়বিদের সঙ্গে ২১.১ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট অনার-এর নির্মিত `লাইটিং` নামের একটি রোবট এই হাফ-ম্যারাথনে সবাইকে ছাড়িয়ে বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে। ২১.১ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ দৌড়টি রোবটটি সম্পন্ন করতে সময় নিয়েছে মাত্র ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড। এই সময়কাল অ্যাথলেট জ্যাকব কিপ্লিমোর গড়া ৫৭ মিনিট ২০ সেকেন্ডের মানব বিশ্ব রেকর্ডের চেয়েও প্রায় সাত মিনিট দ্রুততর। অনারের নির্মিত আরও দুটি রোবট দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছে, যারা যথাক্রমে ৫১ ও ৫৩ মিনিটে রেস শেষ করতে সক্ষম হয়।
এই সাফল্যকে রোবোটিক্স বিজ্ঞানের জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ গত বছরের প্রথম আসরে দ্রুততম রোবটটির দৌড় শেষ করতে সময় লেগেছিল দুই ঘণ্টা ৪০ মিনিটেরও বেশি। প্রকৌশলী ডু জিয়াওডি জানান, বিজয়ী রোবটটি নির্মাণ করতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছে। সেরা মানব দৌড়বিদদের পায়ের কৌশলগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এটিকে নকশা করা হয়েছে। রোবটটির পায়ের দৈর্ঘ্য রাখা হয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ সেন্টিমিটার, যা একে দ্রুত দৌড়াতে সাহায্য করে।
প্রযুক্তিগতভাবে এই রোবটগুলো ছিল অত্যন্ত উন্নত। দৌড়ানোর সময় উৎপন্ন হওয়া প্রচণ্ড তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য এতে স্মার্টফোনের মতো বিশেষ ‘লিকুইড কুলিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবারের আসরে স্বয়ংক্রিয়তার হারও ছিল অনেক বেশি। প্রায় ৪০ শতাংশ রোবট কোনো রিমোট কন্ট্রোল ছাড়াই নিজেদের সেন্সর এবং এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো পথ পাড়ি দিয়েছে। এই অর্জন ভবিষ্যতে রোবট ও মানুষের সহাবস্থানের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন