মে ৮, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
সালের ২ আগস্ট। ওইদিন পৃথিবীর আকাশে দেখা যাবে এক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে স্থলভাগ থেকে দৃশ্যমান সবচেয়ে দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে এটি। এই মহাজাগতিক ঘটনার সময় পৃথিবী প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত পুরোপুরি অন্ধকারে ঢাকা থাকবে। সাধারণ সূর্যগ্রহণগুলো সাধারণত ৩ মিনিটের কম স্থায়ী হয়।
বিজ্ঞানীরা এই বিরল সূর্যগ্রহণটিকে ‘গ্রেট নর্থ আফ্রিকান ইক্লিপস’ নামে অভিহিত করেছেন। গ্রহণটির পূর্ণ পথের ব্যাপ্তি হবে প্রায় ২৫৮ কিলোমিটার। চাঁদের এই ছায়া তিনটি মহাদেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে।
আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে এই ছায়া দক্ষিণ স্পেন, উত্তর মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মধ্য মিসর, সুদান, সৌদি আরব, ইয়েমেন এবং সোমালিয়ার ওপর দিয়ে যাবে। সবশেষে ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের কাছে গিয়ে এটি শেষ হবে।
বিশেষ করে মিসরের ঐতিহাসিক শহর লুক্সর এবং লিবিয়ার মতো অঞ্চলগুলিতে ৬ মিনিটের বেশি সময় ধরে পূর্ণ অন্ধকার বিরাজ করবে। আগস্ট মাসে এসব অঞ্চলে সাধারণত আকাশ পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকে। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে এটি হবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আদর্শ স্থান। দক্ষিণ স্পেনে দুপুর দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে এবং মিসর ও লিবিয়ায় দুপুর দুটো থেকে আড়াইটার মধ্যে এই পূর্ণ গ্রহণ দৃশ্যমান হবে।
মৃত অন্ধকার ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড স্থায়ী হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, বেশ কয়েকটি বিরল মহাজাগতিক কারণ এই দীর্ঘ স্থায়ীত্বের পেছনে কাজ করছে। এই সময়ে পৃথিবী সূর্য থেকে তার কক্ষপথের সবচেয়ে দূরে বা ‘অ্যাফেলিয়ন’ অবস্থানে থাকবে। এতে সূর্যকে পৃথিবী থেকে সামান্য ছোট দেখাবে। একই সঙ্গে চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে বা ‘পেরিজিতে’ অবস্থান করবে, যার ফলে চাঁদকে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় দেখাবে। বড় চাঁদ ছোট সূর্যকে ঢেকে দেওয়ায় গ্রহণের স্থায়িত্ব বাড়বে।
এ ছাড়া এই গ্রহণটি বিষুবরেখার কাছাকাছি পথ অতিক্রম করায় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে তুলনামূলকভাবে ধীরে সরবে। এটিই গ্রহণের দীর্ঘ স্থায়িত্বের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে ভারত ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে এই বিরল দৃশ্যটি সেভাবে দেখা যাবে না। কেবল ভারতের পশ্চিম প্রান্তের কিছু অঞ্চলে সূর্যাস্তের সময় আংশিক গ্রহণ দৃশ্যমান হতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন