মে ৮, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ব্যবহারকারীদের করা ব্যক্তিগত কথোপকথন এখন থেকে আর পুরোপুরি গোপন থাকছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এই চ্যাটবটে ‘ট্রাস্টেড কনট্যাক্ট’ নামের একটি নতুন ফিচার যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ওপেনএআই। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর মানসিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ওপেনএআই জানায়, নতুন এই ব্যবস্থায় চ্যাটজিপিটির অভ্যন্তরীণ সিস্টেম এবং একটি মানব পর্যবেক্ষক দল প্রতিনিয়ত কাজ করবে। কোনো ব্যবহারকারীর আলাপচারিতায় যদি আত্মক্ষতি, আত্মহত্যার ঝুঁকি বা মারাত্মক মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণ শনাক্ত হয়,
তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নির্ধারিত ‘বিশ্বস্ত ব্যক্তির’ কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। মূলত ডিজিটাল একাকীত্ব দূর করতে এবং বাস্তব জীবনে সহায়তা পৌঁছে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়াটি ‘ডিটেক্ট অ্যান্ড ভেরিফাই’ মডেলে কাজ করবে। প্রথমে এআই সিস্টেম কথোপকথন বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করবে। এরপর ওপেনএআই-এর মডারেশন টিম তা পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হবে। ঝুঁকি গুরুতর মনে হলেই কেবল ব্যবহারকারীর নির্ধারিত বন্ধু বা পরিবারের সদস্যকে সতর্ক করা হবে। তবে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত বার্তার কোনো কপি বা চ্যাট হিস্ট্রি কারো সঙ্গে শেয়ার করা হবে না বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
এই উদ্যোগ নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভারতের ফর্টিস হেলথকেয়ারের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ড. সমীর পারিখ মনে করেন, মানুষের জটিল মানসিক অবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে এআই-এর এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার মতে, একজন থেরাপিস্ট পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেন, একটি সফটওয়্যারের পক্ষে সেই মানবিক বিচক্ষণতা দেখানো কঠিন। আইএইচবিএএসের সাবেক পরিচালক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. নিমেশ দেশাইও অ্যালগরিদমের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন ফিচারের ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বাড়তে পারে। ব্যবহারকারীরা যদি মনে করেন তাদের একান্ত আলাপগুলো নজরদারির আওতায় রয়েছে বা এর ফলে পরিবার সতর্কবার্তা পেতে পারে, তবে তারা আর আগের মতো খোলামেলা কথা বলতে চাইবেন না।
পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ এখন চ্যাটজিপিটিকে কেবল তথ্য খোঁজার মাধ্যম নয়, বরং মনের কথা বলার সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করেন। ওপেনএআই-এর এই নতুন নিরাপত্তা ফিচার শেষ পর্যন্ত মানুষের উপকারে আসবে নাকি ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনা চলছে। চ্যাটবটটি হয়তো দ্রুত বার্তা পাঠাতে পারবে, কিন্তু মানুষের মতো পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি সহায়তা করার ক্ষমতা এখনো তার আয়ত্তের বাইরে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন