বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মাটির নিচে ছত্রাকের রহস্যময় জাল

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

জুন ১৫, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

মাটির নিচে ছত্রাকের রহস্যময় জাল

মাটির নিচে আমাদের পায়ের নিচেই প্রতিনিয়ত এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। উদ্ভিদ এবং ছত্রাকের এই সম্মিলিত প্রক্রিয়াকে বলা হয় মাইকোরাইজাল নেটওয়ার্ক, যা মূলত মাটির গভীরে ছড়িয়ে থাকা ছত্রাকের এক অবিশ্বাস্য সুতার জাল। এই জাল মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদে পৌঁছে দেয় এবং সালোকসংশ্লেষণ থেকে তৈরি কার্বন মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে সহায়তা করে।

পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি বেঁচে থাকার জন্য এই আণুবীক্ষণিক জালের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের ভ্রিজে ইউনিভার্সিটি আমস্টারডাম ও সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কসের গবেষকেরা মাটির নিচের এই ছত্রাকের জালের একটি বৈশ্বিক মানচিত্র তৈরি করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, মাটির নিচে থাকা আরবাস্কুলার মাইকোরাইজাল ছত্রাকের এই সুতা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১১০ কোয়াড্রিলিয়ন কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। 

পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের প্রায় ১০০ কোটি গুণ বেশি এই বিশাল দৈর্ঘ্য। গবেষকদের মতে, মাত্র এক চা–চামচ মাটিতেই প্রায় ১০ মিটার বা ৩৩ ফুট দীর্ঘ এই নেটওয়ার্ক থাকতে পারে।গবেষকেরা ১৬ হাজারের বেশি মাটির নমুনা এবং আগের ৩২২টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মানচিত্র তৈরি করেছেন। এতে দেখা যায়, মাটির ওপরের ১৫ সেন্টিমিটার স্তরেই প্রায় ১১০ কোয়াড্রিলিয়ন কিলোমিটার দীর্ঘ হাইফি বা সূক্ষ্ম সুতা রয়েছে। এই বিশাল নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য উপাদান উদ্ভিদ থেকে মাটির ইকোসিস্টেমে স্থানান্তরিত হয়। এটি আমাদের গ্রহের কার্বন চক্রের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাধারণত ক্রান্তীয় রেইনফরেস্টে এই জালের ঘনত্ব বেশি থাকার কথা ভাবা হলেও গবেষণায় তৃণভূমি, প্রেইরি ও জলাভূমিতেই এর আধিক্য পাওয়া গেছে। তবে কৃষি জমিতে এই জালের ঘনত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ৪৭ শতাংশ কম বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও ছত্রাকনাশক ব্যবহারের ফলে এই নেটওয়ার্ক মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা ও কার্বন ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।