সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি এবং এর সম্ভাব্য ধ্বংসের সময়রেখা নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি এবং চীনের সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানীর যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, আজ থেকে প্রায় ৩৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৩৩০ কোটি বছর পর এই মহাবিশ্ব সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে যেতে পারে। মহাজাগতিক শক্তির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স এখন প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর।
নতুন এই গবেষণা অনুযায়ী, একসময় মহাবিশ্বের অবিরাম সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি থেমে যাবে এবং এরপর শুরু হবে সামগ্রিক সংকোচন। শেষ পর্যায়ে সব গ্রহ, নক্ষত্র ও মহাজাগতিক বস্তু একটি একক অতিঘন বিন্দুর দিকে ধাবিত হয়ে চরম বিস্ফোরণে বিলীন হবে। পদার্থবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় `বিগ ক্রাঞ্চ`, যা সৃষ্টির আদিতে ঘটা মহাবিস্ফোরণ বা `বিগ ব্যাং`-এর ঠিক বিপরীত এক মহাজাগতিক প্রক্রিয়া। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীসহ সৌরজগতের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে এখনো প্রায় ২০ বিলিয়ন বা দুই হাজার কোটি বছর সময় রয়েছে।
গবেষণাটিতে সামগ্রিক প্রক্রিয়াটিকে একটি প্রসারিত রাবার ব্যান্ডের মেকানিক্সের সাথে তুলনা করা হয়েছে। একটি রাবার ব্যান্ডকে নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত টান টান করার পর যেমন তার প্রসারণ ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে যায় এবং তা ভেতরের দিকে গুটিয়ে আসে, মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে। বর্তমান মহাবিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ অংশজুড়ে থাকা রহস্যময় ডার্ক এনার্জি বা অদৃশ্য শক্তিই এখন পর্যন্ত এই সম্প্রসারণ সচল রেখেছে।
তবে বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ডার্ক এনার্জি চিরকাল অপরিবর্তিত থাকবে না, বরং সময়ের আবর্তে এর শক্তিমত্তা দুর্বল হয়ে পড়বে। নতুন গানিতিক মডেল অনুসারে, বর্তমান আকারের চেয়ে প্রায় ৬৯ শতাংশ বড় হওয়ার পর মহাবিশ্বের বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ার গতি একসময় শূন্যে নেমে আসবে এবং মহাকর্ষীয় টানে ভেতরের দিকে সংকুচিত হতে থাকবে।
তবে সেই দূরবর্তী বিগ ক্রাঞ্চ প্রত্যক্ষ করার জন্য পৃথিবী কিংবা সৌরজগতের কোনো অস্তিত্ব টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই। অন্যান্য জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আগামী প্রায় ২০ বিলিয়ন বছরের মধ্যেই আমাদের সূর্য নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং সৌরজগৎ ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। একই সাথে পৃথিবী যে ছায়াপথে অবস্থিত, সেই মিল্কিওয়ে ছায়াপথ নিকটবর্তী অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির সাথে মহাকর্ষীয় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়বে বলে দিনাজপুর টিভি ডট কম নিশ্চিত করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন