জুন ২১, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
এক পাশে যখন সূর্যের আলোয় ভাসছে দিগন্ত, অন্য পাশে তখন ভর করেছে বছরের দীর্ঘতম অন্ধকার। আজ ২১ জুন মহাজাগতিক এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের সাক্ষী হচ্ছে পুরো বিশ্বের মানুষ। বাংলাদেশসহ উত্তর গোলার্ধের কোটি কোটি মানুষ আজ বছরের দীর্ঘতম দিন উপভোগ করছেন।ঠিক একই সময়ে বিষুবরেখার ওপারে দক্ষিণ গোলার্ধে নেমে এসেছে বছরের দীর্ঘতম রাত।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ দিনটিকে বলা হয় গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত বা সামার সলস্টিস। প্রতিবছর ২১ জুন এই ভৌগোলিক ঘটনাটি নিয়ম মেনে ঘটে থাকে। আজ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় দিনের আলো প্রায় ১৩ ঘণ্টা স্থায়ী হবে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই আজ রাতের দৈর্ঘ্য হবে বছরের সবচেয়ে ছোট।
স্মিথসোনিয়ান সায়েন্স এডুকেশন সেন্টারের তথ্য অনুসারে পৃথিবী তার অক্ষের ওপর ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি কোণে হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এই বিশেষ হেলে থাকার কারণে উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকায় দিন বড় হয় এবং বিপরীত পাশে দীর্ঘতম রাত নেমে আসে।বছরের এই দীর্ঘতম দিন টি কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাচীনকাল থেকেই নানা উৎসব ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে প্রাচীন প্যাগান ও ড্রুইড ধর্মের অনুসারীদের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।
যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারে অবস্থিত প্রাগৈতিহাসিক পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ স্টোনহেঞ্জ এই উৎসবের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ০০০ বা ৬০০ অব্দের মধ্যে নির্মিত এই পাথরের বৃত্তটি এমনভাবে তৈরি যা সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার গতিপথের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়। আজ ভোরেও হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন পাথরের স্তম্ভগুলোর ফাঁক গলে সূর্যের প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়ার অপার্থিব মুহূর্তটির সাক্ষী হতে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন