অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য ভিডিওর মধ্যে কোনটি আসল আর কোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা এআই দিয়ে তৈরি, তা খালি চোখে বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। আধুনিক এই প্রযুক্তি এখন শুধু লিখিত নির্দেশনার ভিত্তিতেই মানুষের মুখ, কণ্ঠস্বর, শরীরের নড়াচড়া ও বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে মিল রেখে নিখুঁত ভিডিও তৈরি করতে পারে।
গুগলের ভিও বা ক্লিং এআইয়ের মতো ভিডিও জেনারেটর প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এ ধরনের কনটেন্ট আগের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হচ্ছে। অন্যদিকে ছবি ও ভিডিওর উৎস শনাক্ত করতে কনটেন্ট ক্রেডেনশিয়ালস বা গুগলের সিনথআইডির মতো প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এআই শনাক্ত করার কোনো পদ্ধতিই এখন পর্যন্ত শতভাগ নির্ভুল নয় বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
তাই কোনো ভিডিও দেখেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এআই-নির্মিত ভিডিও শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মানুষের মুখের সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি এবং শরীরের নড়াচড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। চোখের পলক অস্বাভাবিকভাবে পড়া, আবেগের সঙ্গে মুখের অভিব্যক্তির অমিল বা এক ফ্রেম থেকে পরের ফ্রেমে ত্বক ও চুলের আকৃতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করলে সতর্ক হতে হবে। বাস্তব মানুষের হাঁটা বা হাত-পা নাড়ানোর সময় স্বাভাবিক যে ভারসাম্য পরিবর্তন হয়, এআই ভিডিওতে প্রায়শই সেই সূক্ষ্মতার অভাব থাকে। কখনো আবার নড়াচড়া অতিরিক্ত মসৃণ বা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে।
এর পাশাপাশি কথা বলার সময় ব্যক্তির কণ্ঠস্বর এবং ঠোঁটের নড়াচড়া একসঙ্গে মিলছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। দীর্ঘ বাক্য বা কথার শেষ অংশে সামান্য অসামঞ্জস্য চোখে পড়তে পারে, যদিও কণ্ঠস্বর নকল করার প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে।
বাস্তব জগতের আলো ও ছায়ার আচরণ নিখুঁতভাবে অনুসরণ করা এআইয়ের জন্য এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভিডিওতে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর ছায়া আলোর উৎসের বিপরীত দিকে না পড়ে অন্যদিকে যেতে পারে। আয়না, কাচ কিংবা চকচকে পৃষ্ঠে মূল দৃশ্যের সঙ্গে না মেলা কোনো প্রতিফলন দেখা গেলে তা সন্দেহের বড় কারণ। একই দৃশ্যের মধ্যে আলো হঠাৎ বদলে যাওয়া বা এক শট থেকে অন্য শটে আলোর তীব্রতায় অস্বাভাবিক পরিবর্তনও এআইয়ের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
ভিডিওটি যে প্ল্যাটফর্মে দেখা হচ্ছে, সেখানে কোনো এআই-সংক্রান্ত লেবেল রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা দরকার। ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করতে `এআই ইনফো` বা `অল্টারড অর সিনথেটিক কনটেন্ট`-এর মতো লেবেল ব্যবহার করে।
তবে কোনো লেবেল না থাকলেই ভিডিওটি শতভাগ বাস্তব—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। অনেক এআই-নির্মিত কনটেন্ট কোনো শনাক্তকারী চিহ্ন ছাড়াই ছড়িয়ে পড়তে পারে, আবার বাস্তব কনটেন্টও কখনো ভুলভাবে চিহ্নিত হতে পারে। সন্দেহজনক ভিডিওর ক্ষেত্রে সেটি প্রথম কোথা থেকে এসেছে, তা খুঁজে দেখা সবচেয়ে কার্যকর যাচাই পদ্ধতি। নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে অল্প সময়ের মধ্যে অসংখ্য ভিডিও প্রকাশ হলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ভিডিওটির মূল উৎস, ঘটনার সময়-স্থান এবং অন্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে একই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটি যাচাই করতে হবে।
মুখের নড়াচড়া, শব্দ, আলো-ছায়া, প্ল্যাটফর্মের লেবেল এবং ভিডিওর উৎস—সব তথ্য মিলিয়ে দেখলেই একটি কনটেন্ট সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও সত্য মনে হলেও শেয়ার করার আগে অন্তত কয়েক মুহূর্ত যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন