এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১১:০৩ এএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে এক বিস্ফোরক ভিডিও প্রকাশ করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টির’ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের একটি কথিত ‘গোপন’ ভিডিও প্রকাশ্যে এনে তৃণমূল দাবি করেছে।
মুসলিম ভোট ভাগ করে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন এই নেতা। তবে ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া এবং ‘এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করে পাল্টা আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ১৯ মিনিটের ওই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, হুমায়ুন কবীর একজনের সাথে কথোপকথনে লিপ্ত।
তৃণমূলের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীর আসন্ন নির্বাচনে মুসলিম ভোট ব্যাংক তৃণমূলের থেকে সরিয়ে আনতে পারলে হিন্দু ভোট সরাসরি বিজেপির দিকে যাবে—এমন গাণিতিক ছক কষছেন। ভিডিওতে তাকে এক হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে বিজেপির সাথে আঁতাত এবং অগ্রিম ২০০ কোটি টাকা দাবি করতে শোনা যায়। এছাড়া বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো হেভিওয়েট নেতাদের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টিও সেখানে উঠে এসেছে।
ভিডিওর কথোপকথন অনুযায়ী, সরকার গঠনে হুমায়ুন কবীর বিজেপিকে সমর্থন দেবেন এবং বিনিময়ে তিনি রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ পাবেন বলে এক প্রকার সমঝোতা হয়েছে। এমনকি বাবরি মসজিদ নির্মাণের আবেগকে ব্যবহার করে মুসলিম ভোট নিজের দিকে টানার কৌশলী ছকও ভিডিওতে বলতে শোনা গেছে তাকে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বোকা বানিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনাই হুমায়ুনের আসল লক্ষ্য। তৃণমূলের এই ‘স্টিং ভিডিও’ সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
এই ভিডিও ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি একে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।” হুমায়ুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যদি হাজার কোটি তো দূরের কথা, ১ কোটি টাকার চুক্তির প্রমাণও কেউ দিতে পারে, তবে তিনি রাজনীতি থেকে চিরতরে সরে দাঁড়াবেন। ২০১৯ সালের পর বিজেপির কোনো নেতার সঙ্গে তার সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি দাবি করে তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মানহানির মামলার ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই ধাপে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই ‘গোপন ভিডিও’ এবং ‘এআই’ বিতর্ক ভোটারদের মেরুকরণে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তৃণমূল ও আমজনতা উন্নয়ন পার্টির এই পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে নির্বাচনী ময়দান এখন রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন