জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১১:৩০ এএম
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন ইসরাইল ও সৌদি আরবের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে যে ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল শ্লোমি বাইন্ডার ইতিমধ্যে মঙ্গলবার ও বুধবার পেন্টাগন সিআইএ এবং হোয়াইট হাউসের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।
এসব বৈঠকে মূলত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোর অবস্থান এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকেই এই তথ্য সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছিল যা এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ।
অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানও একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
তবে ইসরাইলের অবস্থান থেকে সৌদি আরবের সুর কিছুটা ভিন্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রিয়াদ শুরু থেকেই এই সংকট কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে প্রিন্স খালিদ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য যে সৌদি আরব ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রিয়াদ একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্রুত চুক্তিতে আসার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে এবারের আক্রমণ হতে পারে আগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। এর আগে গত জুন মাসে ইসরাইলের সাথে তেহরানের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর মনোভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রধান শক্তি ইসরাইল ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের ওয়াশিংটন সফর নতুন কোনো সামরিক অভিযানের নীল নকশা কি না তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। একদিকে ইসরাইল হামলার তথ্য দিচ্ছে অন্যদিকে সৌদি আরব আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে—এই ত্রিভুজমুখী সমীকরণ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে কোন দিকে নিয়ে যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন