ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ড ও বিভিন্ন উদ্ধার সংস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহু সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি থাকতে বলেছেন এবং দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছেন।
মূলত তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।ইসরাইলি সংবাদপত্র দৈনিক ইয়েডিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে পারেন—এমন একটি মূল্যায়ন সামনে রেখেই ইসরাইল তাদের প্রস্তুতি জোরদার করছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনার টেবিলে যে দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছিল, তা তেহরান প্রত্যাখ্যান করায় ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে ইরান সময়ক্ষেপণের কৌশল নিচ্ছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা চালালে ইসরাইল সেই অভিযানে অংশ নেবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ইরানের প্রথম পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু ইসরাইল হতে পারে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।এদিকে ইরান ইস্যুতে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকটি হঠাৎ স্থগিত করে আগামী রোববারে নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ সরকারিভাবে জানানো হয়নি। তবে ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আমানের সাবেক প্রধান আমোস ইয়াদলিন সতর্ক করে বলেছেন যে, বর্তমানে হামলার সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে।
নিরাপত্তা মহলের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করে, তবে তেহরান তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরাইলি ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে। সিএনএন আরবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত অভিযানের সম্ভাবনা মাথায় রেখে ইসরাইল সর্বস্তরে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে। বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো বর্তমানে ইরানের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। পথে রয়েছে আরেক রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।
অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জেনেভা বৈঠক সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, ইরান এখনো ট্রাম্পের নির্ধারিত সীমা মেনে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়। যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৈঠকের পরিবেশকে গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছেন, তবুও যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তাপ কমছে না। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন