ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি সপ্তাহে তার প্রথম এশিয়া সফর শুরু করছেন যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি দিল্লি আসছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারতের রাজধানী পৌঁছাবেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাণিজ্য বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়টি এই আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে।সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সময় ভারত ও কানাডার মধ্যে যে কূটনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তা কমিয়ে আনাই কার্নির এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমিয়ে এশীয় অঞ্চলে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ার যে পরিকল্পনা কানাডা নিয়েছে এটি তারই একটি বড় পদক্ষেপ। ভারত সফরের পর তিনি পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানেও যাবেন।
এর আগে গত মাসে তিনি বেইজিং সফর করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেছিলেন যা তার এই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতারই অংশ।কার্নি মনে করেন বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় যে অস্থিরতা চলছে তাতে নতুন করে শক্তিশালী মিত্র খুঁজে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী বাণিজ্য নীতি ও বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় কানাডা এখন তাদের বিকল্প বাজার নিশ্চিত করতে চাইছে। কার্নির মতে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং আগের সেই স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশা করা এখন আর বাস্তবসম্মত নয়।
সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে কার্নি জানিয়েছেন যে কানাডীয় পণ্য যেমন গাড়ি অ্যালুমিনিয়াম কাঠ এবং স্টিলের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপ দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তারা এখন মার্কিন-বহির্ভূত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দিল্লির এই সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন